5291aa61b7d49-Soviet-defeat

পাকিস্তানকে পারমাণবিক অস্ত্র গড়তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আফগান নীতি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানার শ্রেণীবদ্ধ তথ্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আজ রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।

স্নায়ুযুদ্ধের অংশ হিসেবে ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে মুজাহিদীনদের বিরুদ্ধে আফগানযুদ্ধে জড়ায় তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ওই যুদ্ধে মুজাহিদীনদের পক্ষ নেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইরান, চীন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানার শ্রেণীভুক্ত তথ্যে (ক্ল্যাসিফাইড ডকুমেন্টস) দেখা যায়, আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর পরাজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানকে পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ হিসেবে গড়তে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রশাসন।

১৯৮৯ সালে আফগানযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের জুলাইয়ে আরশাদ পারভেজ নামের এক পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ব্যক্তি ইসলামাবাদের পারমাণবিক প্রকল্পের উপকরণ কেনার জন্য রপ্তানি লাইসেন্স পেতে এক মার্কিন শুল্ক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পাকিস্তানে উচ্চতর প্রযুক্তির কম্পিউটার ও একই ধরনের সরঞ্জাম অবৈধভাবে রপ্তানির অভিযোগে একই সময় এক চীনা নাগরিক ও দুই মার্কিনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই গ্রেপ্তারে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান প্রশাসনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন রিগান।

এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু রিগানের পররাষ্ট্র দপ্তর এ ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নষ্ট করতে চায়নি রিগান প্রশাসন। কারণ পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক আফগানযুদ্ধে সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদীনদের সমর্থন করে যাচ্ছিলেন। সোভিয়েতবিরোধী ভূমিকার জন্য মার্কিন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল রিগান প্রশাসন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here