কুমিল্লায় মসজিদের নামে জমি না দেয়ায় এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করতে দেয়নি মসজিদ কমিটি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
 
মৃতের পরিবার নিরুপায় হয়ে ঘরের পাশে নিজস্ব জায়গায় লাশ দাফন করে। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের দুতিয়ার দীঘিরপাড় গ্রামে শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
 
প্রবাস ফেরত শাহ আলমের পরিবারের অভিযোগ, পাঁচ বছর আগে স্থানীয় দুতিয়ার দীঘিরপাড় জামে মসজিদ কমিটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি থেকে মসজিদের জন্য ৪ শতক জমি জোর করে নিতে চেয়েছিল। বাড়ির সামনের জমি নিজেদের কাজে ব্যবহার হবে বলে তারা তা দিতে রাজী হয়নি। এ নিয়ে উভয়পক্ষে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে সামাজিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা না হওয়ায় শাহ আলমের পরিবার আদালতের আশ্রয় নেয়। এতে মসজিদ কমিটির লোকজনসহ স্থানীয় এলাকার মাতব্বররা ক্ষুব্ধ হয়ে গত পাঁচ বছর ধরে ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখে। একপর্যায়ে প্রবাসী শাহ আলমের পরিবারের ছেলে-মেয়ে ও সদস্যদেরকে ওই সমজিদ ও মাদরাসায় যেতে দেয়া হয়নি।
 
এমনকি ওই এলাকার সরকারি কবরস্থানেও তাদের পরিবারের কাউকে দাফন করতে দেয়নি। এদিকে শুক্রবার রাতে প্রবাসী শাহ আলম মারা যান। শনিবার তার মরদেহ ওই সরকারি কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নিলে প্রতিপক্ষরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় শাহ আলমের ঘরের পাশে নিজস্ব জায়গায় লাশ দাফন করা হয়। এলাকার সরকারি কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে না দেয়ায় শাহ আলমের স্ত্রী-কন্যা ও স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
 
মৃতের ভাতিজা হারুন বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে জায়গা না দেয়ায় মসজিদ কমিটি আমদের সমাজচ্যুত করে রাখে। মসজিদে নামাজ ও বাচ্চাদের মক্তবে যেতে দিত না কমিটি।
 
মসজিদ কমিটির সভাপতি সালাম মিয়া জানান, মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হওয়ায় এখানে কবর দিতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদেরকে কেউ সমাজচ্যুত করেনি।
 
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ছত্তরখীল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহীন কাদের বলেন, তারা সমাজচ্যুত কি-না তা আমাদের কেউ জানায় নি। লাশ দাফনে বিরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর শাহ আলমের মরদেহ তার নিজ জায়গায় দাফনের ব্যবস্থা করি।
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here