যে ওষুধ দিয়ে মশক নিধনের বিশেষ কর্মসূচি চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), তার কার্যকারিতা নিয়ে তাদের নিজেদেরই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ফলে মশার ওষুধ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। 

গতকাল মঙ্গলবার গুলশানের নগর ভবনে অঞ্চল-৩-এর এলাকাগুলোতে মশক নিধনের জন্য বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করার সময় প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি এ তথ্য জানান। 

এ বছর মশার প্রজনন মৌসুম শুরুর আগেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করে ডিএনসিসি। প্রথম দফায় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর কথা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্যানেল মেয়র বলেন, এই বিশেষ কর্মসূচি চালাতে প্রতিদিন ডিএনসিসির ১০-১১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু যে ওষুধ দিয়ে তাঁরা এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তার কার্যকারিতা নিয়ে ‘সন্দেহ’ হওয়ায় তাঁরা কোম্পানি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
প্যানেল মেয়র বলেন, ‘আমরা যখন একটা জায়গায় স্প্রে করি, তখন কিন্তু মশা আর সেখানে থাকে না। স্প্রে করার পর ওষুধের অ্যাকশন যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ মশা আর আসে না। পরে আবার চলে আসে। কাজেই আমরা ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছি ব্যাপকভাবে।’ 

ওসমান গণি আরও বলেন, নতুন ওষুধ দিয়ে ১৫ মার্চের পর আবার নতুন করে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। তখন ডোবা, নালাসহ মশার প্রজননক্ষেত্রগুলোতে নতুন করে ওষুধ ছিটানো হবে। 

ডিএনসিসি মশার প্রজননক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্যানেল মেয়র বলেন, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ডে কিছু জলাবদ্ধ এলাকা আছে। সেখানে কিছু ময়লা আছে। কচুরিপানা আছে। সেই ডোবাগুলো পরিষ্কার করে সেখানে আমরা ওষুধ দেব।’ 

ওষুধ ছিটানো ও আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ একসঙ্গে চলছে না কেন—সংবাদকর্মীদের এই প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘আমাদের লোকবলের অভাব আছে। তাই দুইটা দুই জিনিস এক সাথে আমরা করি নাই।’ 

তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মেয়রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুরুর আগে উপস্থিত সবাইকে ডিএনসিসির মশক নিধন কর্মসূচির একটি লিখিত বিবরণ দেওয়া হয়। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিবরণে দাবি করা হয়েছে, ডিএনসিসি এলাকায় মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত ২ হাজার ১৫৩ বিঘা ডোবা, জলাশয়ের কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। 

মশক নিধনে জোন-৩-এর বিশেষ কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

গত বছর ঢাকায় ‘মহামারি’ আকারে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার পর একদিকে মশক নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ ও আন্তরিকতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনি মশা মারার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এর নিয়ে লেখালেখি হয়। কিন্তু দুই সিটি করপোরেশনই বলেছিল, ওষুধ ঠিক আছে। 

চিকুনগুনিয়া রোগে কেউ মারা না গেলেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যে ব্যথা হয়, সেই যন্ত্রণা ভয়াবহ। চলতি বছরে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরজুড়ে বেড়েছে মশার দাপট, যা মানুষের মনে ফিরিয়ে এনেছে চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার ঘনত্ব অনুসারে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৯টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা পরিচালিত এই জরিপের ফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়। জরিপ প্রতিবেদনে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন
  • 3
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here