528094f8206bf-PMO-1মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না। পুনর্গঠিত হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান কাঠামোয় মন্ত্রিসভার এটাই শেষ বৈঠক। পদত্যাগপত্রগুলোর মধ্যে কিছু রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। আর কিছু রেখে দেওয়া হবে। তাঁরা পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন। এ ছাড়া ওই মন্ত্রিসভায় নতুনদের যুক্ত করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পরই মন্ত্রীদের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সংবিধানে সর্বদলীয়, একদলীয় বা অন্তর্বর্তী সরকার বলে কোনো কথা নেই। প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি এই মন্ত্রিসভার সংখ্যার ব্যাপারে কিছু বলেননি। তবে ওই মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে।
নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠনের লক্ষ্যে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার আজকের বৈঠকে উপস্থিত সব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি অবশ্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ না পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত মন্ত্রীরা দাপ্তরিক ও নির্বাহী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এর আগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনের খুদেবার্তায় প্রথম আলো ডটকমকে নিশ্চিত করেছিলেন তথ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।528094fe07edd-PMO-2বিএনপি না এলে সর্বদলীয় সরকার কীভাবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, ‘বিএনপি না এলে একটা খুঁত থেকে যাবে। তাই বিএনপিকে আনার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই সেটি স্বাভাবিকভাবে কার্যকর হয়। অবশ্য গতকাল রোববার কয়েকজন মন্ত্রী প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে যাঁরা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবেন, তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে না। অন্যদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
এর আগে ৪ নভেম্বরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন বলা হয়, এক সপ্তাহের মধ্যে যেন সবাই পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর পর থেকে পদত্যাগপত্র জমা পড়তে শুরু করে। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম পদত্যাগপত্র জমা দেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
আজকের আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে বেশ কয়েকজন পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভার আজকের বৈঠকে হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীকে হিজড়া লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিতকরণ নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here