J News
বড় দুটি অর্জন সঙ্গে নিয়ে নিউইয়র্ক ছাড়লেন শেখ হাসিনা

দুটি বড় অর্জন সঙ্গে নিয়ে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ‘আইটিইউ’ পুরস্কার নিয়ে ৯ দিনের সফর শেষে লন্ডনের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ছেড়ে গেছেন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (বিএ-০১৭৮) প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক ছেড়ে যান।

নিউইয়র্কে পা রাখার পর থেকেই ব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সার্কভুক্ত দেশসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো বেশি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের ওপর জোর দেন দুই দেশের নেতা।

এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতিসংঘের পরিবেশ সম্পর্কিত সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নে আইসিটি পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ অব দ্য আর্থ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কাছ থেকে ‘আইটিইউ পুরস্কার’।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন। একই দিনে তিনি যোগ দেন জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদকে মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার জন্য সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানান।

সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী যোগ দেন চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল লিডারস মিটিং অন জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি অ্যান্ড ওমেনস এমপাওয়ারমেন্ট : এ কমিটমেন্ট টু অ্যাকশন’-শীর্ষক সেমিনারে।

২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ২০১৫ পরবর্তী বিশ্বের উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে অধিবেশনের প্লেনারি সেশনে ভাষণ দেন। এতে তিনি টেকসই উন্নয়ন ও এ লক্ষ্যে সরকারের কর্মকাণ্ডে জাতীয় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই দিন তিনি নিউইয়র্ক হিলটন হোটেলে তার সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগেরর দেয়া নাগিরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।

২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা বিশ্বশান্তিরক্ষা সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, উরুগুয়ে ও ইউএনএসজি।

২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত আইএসআইএল ও সহিংস জঙ্গিবাদ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেন। তিনি এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ : বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন।

সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে ভাষণ দেন। তিনি সেখানকার শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। একই দিন প্রধামন্ত্রী হোটেল ওয়াল্ডরফ এস্টোরিয়ায় বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্টান্ডিং অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করন।

দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি করবেন এবং সেখানে ২ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়ার কথা রয়েছে। ৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে যাবেন বলে সরকারি সূত্রগুলো জানায়।

এদিকে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ‘আইটিইউ’ পুরস্কার অর্জন করায় দেশে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here