songsod

newsবেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ঠেকাতে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ এর আলোকে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মতো সরকার নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের কথা বিবেচনা করছে সরকার। আজ রবিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা জানান।

 

একই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এন.টি.আর.সি.এ) বছরে দুটি নিবন্ধন পরীক্ষা চালু করেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শপথ:

রাজশাহী-৫ আসনের আব্দুল ওয়াদুদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশ্নপ্রয়ণকারীর ও পরিশোধনকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় শপথ ও এই বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা  এবং এমসিকিউ প্রশ্নের নম্বর কমিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা বোর্ডের সকল চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রশ্নপত্র সেট ও মডারেশনে নিয়োজিত শিক্ষকদের সম্মানী, সুযোগ-সুবিধা আকর্ষণীয় করা, প্রশ্নপত্র প্রণেতাকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে উপস্থিত থেকে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ করা, প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারী মনোনয়নে আবর্তনমূলক পন্থা অবলম্বন করা, বোর্ডভিত্তিক ভিন্ন প্রশ্নপত্র পরীক্ষা পরিচালনা করা বোর্ডের মডারেশন কক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দীর্ঘ সময়ব্যাপী পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্নির্ধারন মাধ্যমের পরীক্ষার সময়ের ব্যাপ্তী কমিয়ে আনা এবং পুনর্নির্ধারিত পরীক্ষাসূচি শিক্ষাপঞ্জীতে অন্তর্ভূক্ত করে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও প্যাকেটজাত করার সময় কমানো, প্রশ্ন মুদ্রণকালে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া, ট্রাংকজাত করার সময় গোপনীয়তা রক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার ও বিজি প্রেসে পর্যাপ্ত সংখ্যাক সিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষার নামে সনদ বাণিজ্য বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর:

সেলিনা জাহান লিটার (মহিলা আসন-১) এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার নামে সনদ বাণিজ্য বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর। আইন অম্যান্যকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধান সাপেক্ষে সমাবর্তনের অনুমতি দেয়া হবে।

এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা:

একেএম মাইদুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত মাদরাসার সংখ্যা সাত হাজার ৫৯৮টি। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা চার লাখ সাত হাজার ৪৭১ জন। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বাবদ প্রতিমাসে মোট ১৬৪ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যায় হয়। এছাড়া দেশে এমপিওবিহীন মাদরাসার সংখ্যা এক হাজার ৬০৭টি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খ্যাতিনাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস:

আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর দেশে বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেণ, বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম বিধিমালা-২০১৪  প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মান সম্মত এবং খ্যাতিনাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে নতুন এমপিওভুক্তি:

মো. শফিকুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদের ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম.পি.ও ভুক্ত হরা হয়েছে। বাজেটের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাপ্তিসাপেক্ষে এমপিও নির্দেশিকা অনুসরণ করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে এমপিও ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

প্রতি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ:

শেখ মো. নুরুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পরিকল্পনা সরকারের আছে। তবে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here