গাজীপুরে বিএনপির যৌথ কর্মিসভায় পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছে। পিটুনি এবং পালাতে গিয়ে হুড়াহুড়িতে অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। জেলা বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিন আহমেদ মোমতাজীর (৪৫) পা ভেঙে গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। পরে এ ঘটনাকে কোন্দল বলেছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা (২৮), গাজীপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলকর্মী ফারুক আহমদ (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), মো. কবির (২৮) ও দীপুর (২৫) নাম জানা গেছে।

আটকদের মধ্যে গাজীপুর সদর থানা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. সোলায়মান খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক গাজী সুলতান শাহজাহান জুয়েল, ছাত্রদলকর্মী ফারুক (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), কবির হোসেন (২৮) ও দীপুর (২৫) নাম জানা গেছে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ জানান, রবিবার সকালে শহরের ট্রাস্ট কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপি যৌথ কর্মিসভার আয়োজন করে। এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ মো. জয়নাল আবেদিন ফারুক। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে সভা শুরু হলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মাজহারুল আলম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন, গাজীপুর সদর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ আহমেদ, গাজীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মিয়া হান্নু প্রমুখ।

দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা ও জয়দেবপুর থানার বিপুলসংখ্যক পুলিশ ওই কমিউনিটি সেন্টার ঘিরে ফেলে। ভেতরে দুই হাজারের বেশি কর্মী ছিল। অনেকে তখনো গেট দিয়ে প্রবেশ করতে ছিল। পুলিশ মূল গেটে অবস্থান নিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক এবং কয়েকজনকে পেটায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে অবস্থানকারী নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে কমিউনিটি সেন্টারের পেছনের দেয়াল টপকে পালাতে শুরু করে। পরে কর্মিসভা সংক্ষিপ্ত করে নেতারা বেরিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ বেপরোয়া লাঠি পেটায়। এ সময় জয়নাল আবেদিন ফারুক ও ফজলুল হক মিলনের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ জয়নাল আবেদিন ফারুক ও ফজলুল হক মিলনকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন।

ফজলুল হক মিলন জানান, কমিউনিটি সেন্টারটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ সভায় পুলিশ নেতাকর্মীদের নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে। লাঠিচার্জে পালাতে গিয়ে ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, পুলিশের অনুমতি ছাড়া বিএনপি ওই সভার আয়োজন করেছিল। এতে তাদের কোন্দলে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here