52d298565d472-bnp--logoআন্দোলনে সফলতা না আসায় ও নেতা কর্মিদের হতাশা এবং নানামুখী চাপে লাগাতার অবরোধ থেকে পিছিয়ে এল বিএনপি। এখন দলটি নতুন কর্মসূচির চিন্তা করছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই বর্তমান সরকারের পতনে নতুন কর্মকৌশল ঠিক করতে চায় বিএনপি ও এর মিত্ররা।তবে তাতেও তারা নিশ্চিত না যে তারা আদো এই সরকারের পতন ঘটাতে পারবে কিনা।
গত ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কার্যত টানা অবরোধ-হরতাল দিয়ে আসছে বিএনপি। এর মধ্যে পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখে ২৯ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সফল করতে না পেরে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চালিয়ে আসছিল তারা। গতকাল শনিবার ঘোষণা দিয়ে কাল সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ স্থগিত করে দলটি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি ও জোটের কয়েকজন নেতা  বলেছেন। তাঁরা মনে করছেন, বিএনপির টানা অবরোধে সাড়া দিচ্ছে না মানুষ। লাগাতার অবরোধে সাধারণ মানুষও এখন বিরক্ত। নেতা-কর্মীরাও মাঠে নেই। এ ছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মহল একতরফা নির্বাচনের জন্য যেমন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করছে, তেমনি একই সঙ্গে সহিংসতার জন্য বিরোধী জোটেরও সমালোচনা করছে। প্রভাবশালী একাধিক দেশ সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথা বিএনপিকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আওয়ামী লীগও এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে উঁচু গলায় কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।

ওই নেতারা বলছেন, এরই মধ্যে আবার এ মাসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও বিশ্ব ইজতেমা আছে। এ ছাড়া ১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী। সব মিলিয়ে লাগাতার অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চাপে পড়েছে বিএনপি জোট।

বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের অনুরোধের পাশাপাশি তৃণমূল থেকেও টানা অবরোধ থেকে সরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, সারা দেশের, বিশেষত উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা দুরবস্থায় পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা মনে করছেন এ অবস্থায় টানা অবরোধ বা হরতাল দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। বরং তা হিতে বিপরীত হতে পারে। এখন এ  সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই জরুরি। তাই এখন নতুন কর্মকৌশলের দিকে ঝুঁকেছে বিএনপি। কয়েক দিনের মধ্যে কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে নতুন চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষ করে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে কীভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে অবরোধ-হরতাল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলেও তা থেকে একেবারেই সরে আসবে না বিএনপি জোট। মাঝেমধ্যে এ ধরনের কর্মসূচিও পালন করা হবে।
আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা যায়  তাঁরা আন্দোলনে আছেন। আন্দোলনেই থাকবেন। পরবর্তী কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here