new
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ৬.৯৬ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্ধিত এই দাম চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গত সপ্তাহে পাঁচটি বিদ্যুত্ বিতরণী সংস্থা ও কোম্পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের উপর গণশুনানির পর গতকাল বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

বিইআরসি চেয়ারম্যান এ আর খান জানিয়েছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও আবাসিকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুত্ যারা ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে দাম বাড়ছে না। দাম বাড়বে না সেচে ব্যবহূত বিদ্যুতেরও।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার তিন মাসের মাথায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হল। তবে আওয়ামী লীগের গত সরকারের আমলে খুচরা এবং পাইকারি পর্যায়ে ১১ দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে খুচরা বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ এবং পাইকারির দাম ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এদিকে বরাবরের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

সূত্র জানায়, গত ৬ মার্চ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তারের উপর গণশুনানি শেষ হয়। এতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) বর্তমান দামের উপর ১২.৫৮ শতাংশ, পিডিবি ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১৫.৯০ শতাংশ ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ২৩.৫০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে।

এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিইআরসি’র মূল্যায়ন কমিটি পিডিবি’র জন্য ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ওজোপাডিকোর ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, ডেসকো’র জন্য ২.০১ শতাংশ ও ডিপিডিসির বিদ্যুতের দাম ৬.০৩ শতাংশ হারে বাড়ানোর সুপারিশ করে।

পিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়, খুচরা বিদ্যুতের মূল্যহার সরবরাহ ব্যয়ের তুলনায় কম হওয়ায় বিদ্যুত্ সংস্থা ক্রমশ আর্থিকভাবে দুর্বল হচ্ছে। দাম বাড়ানো হলে খুচরা বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় ও খুচরা মূল্যহার সমপর্যায়ে আসবে। তারা জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের গড় খুচরা সরবরাহ ব্যয় হবে ইউনিট প্রতি ৬ দশমিক ৯৩ টাকা। যার বিপরীতে বর্তমান খুচরা বিক্রয় মূল্য ৬ টাকা। তাই খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধি না করা হলে পিডিবির বিতরণ খাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হবে।

ওজোপাডিকোর প্রস্তাবের পক্ষে শুনানিতে বলা হয়, ‘কোম্পানির লোকসান হচ্ছে। বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ন্যূনতম ৬৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন।’

ডেসকো তার প্রস্তাবে বলেছে, ক্রয়মূল্য ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য পড়ছে ৭.১৪ টাকা। আর বিক্রি করা হচ্ছে গড়ে ৬.৫৮ টাকা দরে। দাম বাড়ানো না হলে চলতি অর্থবছরে তাদের ১৪৯ কোটি টাকা লোকসান দিতে হবে। তবে দাম বাড়ানো না গেলে ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব করে প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here