বিদ্যাদেবীর কৃপালাভের আশায় বাণী-অর্চনার মধ্যদিয়ে মাঘের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে গতকাল বিপুল উদ্দীপনায় উদযাপিত হলো বিদ্যা ও ললিতকলার দেবী সরস্বতীর পূজা। সনাতনধর্মীরা ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞান-দায়িনী, সিদ্ধি-দায়িনী, মোক্ষ-দায়িনী এবং শক্তির আধার বিশ্বাসে সরস্বতী দেবীর আরাধনা করেছেন। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পূজা মণ্ডপ ও গৃহ-আঙ্গিনা। এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা- এই ‘বীণাপানি’ দেবীর সম্মুখে সকালে পূজার সূচনা হয় অঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে, প্রসাদ বিতরণ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। সরস্বতী পূজার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনে এ বছর জগন্নাথ হলে মোট ৬৬টি মণ্ডপে সরস্বতীর আরাধনা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকেই সেখানে ছিল শিক্ষার্থী, ভক্ত আর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, কুয়েত মৈত্রী হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলেও আলাদা মণ্ডপে বিদ্যাদেবীর অর্চনা হয়েছে। বরাবরের মতই জগন্নাথ হলের পুকুরের মাঝে বিশাল আকারের সরস্বতী প্রতিমা গড়েছে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করিয়ে শিশুদের হাতে কাশ ফুলের কলম ও রূপক দোয়াত তুলে দেন। ওই কলম দিয়ে একটি মাটির সরায় (পাত্র) লেখার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লেখা-পড়া শুরু করে শিশু। একেই বলা হয় ‘হাতেখড়ি’। ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৮টায় পূজা শুরু হয়। সাড়ে ১১টায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলী দেওয়ার পর ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরান ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাণী অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে হয় সরস্বতী পূজা।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here