শোবিজে দীর্ঘ বছর একই তালে পথ চলছেন বিজরী বরকতউল্লাহ। সে তাল বেশ ছন্দময়, নির্মাতা এবং দর্শক-ভক্তদের বিরামহীন ভালবাসায় সিক্ত। আর সে সূত্রে ক্যারিয়ার তার দারুণ আলোয় আলোকিত। এবার সে ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন রঙ। ভিন্ন মাত্রার সে রঙের ছোঁয়ায় নতুন এক রূপ ধারণ করবে বিজরীর অভিনয় অঙ্গনে পথচলা। খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমানের বিখ্যাত ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’র গল্প থেকে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করতে যাচ্ছেন নির্মাতা ফয়সাল রাজীব। এনটিভির জন্য নির্মিতব্য এ ধারাবাহিক বিজরী রূপা নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন। যে চরিত্রটি ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে রূপ দিয়েছিলেন রোজি সামাদ। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে বিজরী বেশ উৎফুল্ল। বললেন, ‘জীবন থেকে নেয়া’ বাংলা ছবির জগতে একটি ইতিহাস। সেটিকে নিয়েই একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে খুব ভাল লাগছে। ভাল লাগাটা অনেক বেশি এ কারণে যে, রোজি সামাদের মতো গুণী একজন অভিনেত্রীর করা চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছি ভেবে। আশা করছি এ কাজটি আমার অভিনয় ক্যারিয়ারে নতুন রঙই যোগ করবে। বিজরী জানান, ধারাবাহিকটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন তৌকীর আহমেদ। আর আগামী ২৫শে অক্টোবর থেকে শুরু হবে ধারাবাহিকটির শুটিং। এ সময়ের অন্যান্য ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজরী বলেন, বেশ কয়েকটি একক নাটকে কাজ করেছি সেগুলোর প্রচার শুরু হবে সহসাই। এছাড়া এখন প্রচার চলছে ‘চোরাকাঁটা’, ‘কর্পোরেট’ এবং ‘কালান্তর’-এর। ব্যস্ত পথ ধরে গতিময় চলাচলে সবসময়ই নস্টালজিক বিজরী। আর তাইতো বারবারই তিনি ফিরে যেতে চান তার পথচলার শুরু নৃত্যজগতে। কিন্তু নাটকের ব্যস্ততার কারণে তা আর হয়ে ওঠে না বলে জানান তিনি। সেই ছোট্টবেলায় নাচে পারদর্শী এই মেয়েটি অনেকটা অপরিকল্পিতভাবেই নিজেকে অভিনয়ে জড়িয়েছিলেন। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুদের অনুষ্ঠানে ক্যামেরার সামনে নিজেকে দাঁড় করান তিনি। আর ১৯৮৮ সালে ‘সুখের ছাড়পত্র’ নাটকে অভিনয় করে একজন অভিনেত্রী হিসেবে ছোটপর্দায় নিজের অভিষেক ঘটান। নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন তারই বাবা বরকতউল্লাহ। তবে এ নাটকে বিজরী নিজের ইচ্ছাতে কিংবা তার বাবার ইচ্ছাতেও অভিনয় করেননি। অন্য একজন অভিনয় শিল্পী না আসায় তার বদলেই তাকে এ নাটকে জাহানারা ইমামের ইচ্ছায় অভিনয় করতে হয়েছিল। তখন বিজরী ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। নাটকটি বিটিভিতে প্রচার হওয়ার পর তাতে বলা তার ‘ওহ বয়’ সংলাপটি সে সময় বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পরিণত বয়সে বিজরী প্রথম অভিনয় করেন ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’তে ১৯৯৩ সালে। মূলত অডিশন দিয়ে একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়েই একটু একটু করে পেশাগতভাবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় তখন থেকে। প্যাকেজ নাটকে বিজরী প্রথম অভিনয় করেন আবদুস সাত্তার পরিচালত ‘মেঘ কালো’-তে । এ নাটকে তার বিপরীতে ছিলেন মাহফুজ আহমেদ। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন বিজরী। এ পর্দাকন্যা বেশ কয়েকটি ভাল ভাল বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সদরুল পাশার নির্দেশনায় প্রথম তিনি মডেল হন ‘পিউলি টারমানিক ক্রিম’-এর বিজ্ঞাপনে। বাংলাদেশে একমাত্র তিনিই তিব্বতের সর্বাধিক বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। বিজরী বলেন, অনেক ভাল ভাল বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলাম আমি। কিন্তু রেসপন্স সেভাবে পাইনি। আবার এমন কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি যার জন্য প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রেসপন্স এসেছে। বিজরী আরও বলেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে দর্শকের ভালবাসা আমার কাজের অনুপ্রেরণা। তবে আমি মনে করি অভিনয় করে আজও আমি আমার জীবনের সেরা অর্জনটা পাইনি। একজন বিজরী বরকতউল্লাহর মিষ্টি হাসি দর্শকের মনে ভাল লাগার জন্ম দেয়। আর দেশটিভি তার সেই মিষ্টি হাসি এবং সঙ্গে নান্দনিক বাচনভঙ্গি কাজে লাগিয়েই তাকে দিয়ে নিয়মিত উপস্থাপনা করাচ্ছে নিয়মিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘মুখ ও মুখরতা’। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন বিজরী। তিনি বলেন, আমার জীবনের প্রথম উপস্থাপনা এই অনুষ্ঠানেই। আমাকে বেশ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে বলেই আমি যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে কাজটি করছি। বিজরীকে এখনও চলচ্চিত্রে না দেখা গেলেও সব সময়ই তার ইচ্ছে ভাল গল্পের ছবিতে অভিনয় করার।75979_e1

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here