বেগম জিয়ার ৫ বছরের জেল হওয়ার খবর শুনার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে বি এন পি কর্মিরা তাদের বোল পালটে রাতারাতি আওয়ামীলীগার বনে গেছে, অনেকে তাদের সাইন বোর্ড খুলে বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ বিভিন্ন  ক্লাবের নামে সাইন বোর্ড লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বনে গেছেন। অন্য দিগে বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পর রাজনীতিতে এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিএনপি ভেঙ্গে কয় টুকরা হবে এবং ভাঙ্গবে  কবে? বেগম জিয়া কারাগারে যাবার এক ঘণ্টার মধ্যে বিএনপিতে প্রকাশ্য মত বিরোধ দেখা দিয়েছে। কোনো নেতৃত্ব না থাকায় যে যা খুশি তাই বলছেন। বিএনপির নেতারা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং বক্তব্য দিচ্ছেন। তারেক জিয়া লন্ডন থেকে ওডিও বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন মহাসচিবের কোন নির্দেশ মানার দরকার নাই, কর্মিরা সবাই নেতা, যার এলাকা  বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে যতক্ষন না শেখ হাসিনার সরকার এর পতন না ঘটে।

রায় ঘোষণার পরপরই কারও সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করলেন। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন আদালতে। রায়ের পর পর মির্জা ফখরুল ব্যারিস্টার মওদুদ কে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যান। এসময় তিনি বলেন, আমি সংবাদ সম্মেলন করব। তখন বিএনপির আরেক নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘রিজভী ভাই তো সংবাদ সম্মেলন করে ফেলেছে।’ এতে মওদুদ আহমেদ অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব আবার সংবাদ সম্মেলন করেন। মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনের আগেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বেগম জিয়ার অবর্তমানে তারেক জিয়াই বিএনপির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘নজরুল কে একথা বলতে বলেছে? এরকম কোনো সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে হয়নি। গঠনতন্ত্রে কোথায় আছে এটা?’ এক পর্যায়ে একে অপরের দিকে মারমূখি হয়ে উঠে।

বেগম জিয়ার রায় এবং গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এভাবেই কার্যত: বিভক্ত হয়ে পরেছে দলটি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনা তারেক জিয়ার জন্য অসম্ভব একটা কাজ। এভাবে দল পরিচালনা করা যায়না। বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই বিএনপিতে নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ পাবে। কেউ কাউকে মানবে না। অবিশ্বাস, মতদ্বৈততা আর কোন্দলে খুব শিগগিরই হয়তো দলটি বিভক্তির পথে হাটবে। অবশ্য বিএনপির তারেকপন্থী একজন নেতা বলেছেন, ‘বিএনপির ভাঙ্গনের প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল। বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তার করেই ভাঙ্গন প্রক্রিয়া শুরু হবে এটা সবাই জানতো, এখন দেখছে।’

ওই নেতা বলেন ‘খুব শিগগিরই যদি বেগম জিয়া মুক্তি না পান তাহলে শুধু দুই ভাগ নয়, বিএনপি কয়েক টুকরো হতে পারে। অন্য দিকে গোপন খবরে জানা যায় তারেক-রিজভী নজরুল থাকবে বি এন পিতে, ফকরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মওদুদ, খন্দকার মোশারফ সহ অন্যরা আলাদা বি এন পি হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম কয়রে যাবেন অবশ্য সরকারে অনুগত হিসেবে, অনেক আগে থেকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আলাদা দল ঘঠন করেছেন, তার সাথে আছে বি এন পি,র প্রতিষ্টাকালিন ও বি এন পি থেকে দূরে সরে থাকা অনেক নেতা, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বি এন পি নামে আসল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্টা করা কারন নাজমুল হুদা বি এন পির প্রতিষ্ঠাতার একজন। সব কিছু নির্ভর করবে  বেগম খালেদা জিয়ার জেলে থাকার সময়ের উপর যদি অতি সহসা মুক্তি পেয়ে যায় তাহলে   পরবর্তি মামলার রায়ের অপেক্ষা করবেন তারা, মূল বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন গ্রুপের লড়াইয়ে একটাই উদ্দ্যোশ্য হচ্ছে ধাঁনের শীষ ভাগিয়ে নেওয়া।  সব কিছু জানার জন্য আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। 

শেয়ার করুন
  • 355
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here