Report

বিএনপি নেত্রী অফিসে বসে হাসিনাকে হত্যার ছক কষছেন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খালেদা জিয়া তার গুলশানের কার্যালয়ে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। আন্তর্জাতিক জঙ্গীগোষ্ঠী তালেবান, আল-কায়দা ও আইএসের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোন পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করতে কাউকে লাগবে না, খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াই বিএনপির ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। দেশের জনগণকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা শেখ হাসিনার আলোকিত বাংলাদেশ চান, নাকি খালেদা জিয়ার অন্ধকার ও হাওয়া ভবনের দুঃশাসনে ফিরে যেতে চান? দেশের জনগণ ভুল করলে আবারও আলোকিত বাংলাদেশ হারিয়ে যাবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না এবং জনগণকে ভয় পান বলেই নির্বাচনে আসেননি। আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে উনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।  দেশের জনগণ আজ এই জঙ্গীবাদী নেত্রীকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে উনি এখন সরকার প্রধানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশে সেনা শাসন বা মার্শাল ল’ থাকতো। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে আজ দেশে গণতন্ত্র রয়েছে, মানুষের বাক-স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত  জোট দু’মাস ধরে কী করছে? মানুষকে পেট্টোল বোমা মেরে, গায়ে পেট্রোল ছিটিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করছে। ক্ষমতায় থাকতেও তারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড মেরে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ২৪ জনকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে হাওয়া ভবন ও তারেক জিয়া জড়িত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি হচ্ছে ডবল স্ট্যান্ডার্ড। বিএনপি এখন দু’জায়গার নির্দেশে চলে। এক গুলশান থেকে, আরেকটি লন্ডন থেকে। বিএনপি এখন আন্ডারগ্রাউন্ড দলে পরিণত হয়েছে। আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ আবারও শেখ হাসিনাকে পুনর্নির্বাচিত করবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বছরের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একদিন বাংলাদেশে স্লোগান ছিল গ্রামে ডাক্তার চাই। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এখন প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে ডাক্তার আছেন। তরুণ চিকিত্সকরা নিজের জন্মভূমিতে থেকে মানুষকে চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন। বরিশালসহ ছয়টি জেলার হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী চার বছরে ইনশাল্লাহ প্রতিটি জেলার হাসপাতালে সিসিইউ ইউনিট হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আরও দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অচিরেই একটি মডেলে পরিণত হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশকে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছেন বিএনপি নেত্রী। কিন্তু দেশের জনগণ শুধু নয়, বিশ্ববাসীও তার সন্ত্রাস-নাশকতা ও জঙ্গীবাদী অশুভ তত্পরতাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘বাংলাদেশ থেকে চিকিত্সক ও ওষুধ নিতে আগ্রহী সুদান’

সুদান বাংলাদেশ থেকে চিকিত্সক ও ঔষধ নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশে নিযুক্ত সুদানের রাষ্ট্রদূত ড. হাসান ই. এল তালিব গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে সাক্ষাত্কালে এই আগ্রহের কথা জানান।

সুদানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জন এবং ওষুধের মানের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে সুদানে চিকিত্সক গেলে দুই দেশই লাভবান হবে। বিশেষ করে হূদরোগ ও ক্যান্সার চিকিত্সায় বাংলাদেশ থেকে চিকিত্সক পেলে সুদানের মানুষ উপকৃত হবে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ ও সুদানের মধ্যে সুসম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের ওষুধ তৈরি হচ্ছে। আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানি করছি। মন্ত্রী সুদানে চিকিত্সক ও ওষুধ প্রেরণ প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আহ্বানের জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।

সুদানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সুদানের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি দুই দেশের মাঝে স্বাস্থ্যখাতে গবেষণার কাজ পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের অনুরোধ সক্রিয়ভাবে বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here