বিএনপিকে কঠোর বার্তা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিনটি দেশই আলাদা আলাদা ভাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এর ফলে বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনীতির সকল সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হবে। ঢাকায় দায়িত্বশীল একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এখবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেস্ক থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে এক বার্তা এসেছে। বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আগামী আট ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দু’টি দুর্নীতি মামালার একটির রায়। এই রায় নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি উত্তপ্ত এবং সহিংস হয়ে উঠতে পারে।‘ ওই বার্তায় ৩০ জানুয়ারি প্রিজন ভ্যানে বিএনপি কর্মীদের আক্রমণের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘২০১৪ এবং ২০১৫র মতো বিএনপি সহিংস পথে দাবি আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। দেশের নাগরিকদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের কৌশল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না।‘ ওই বার্তায় বলা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে কোনো সহিংসতাকে সমর্থন করে না। আবার গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখার নীতিকেও পছন্দ করে না।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দুপক্ষকে ‘শান্তিপূর্ণ ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পরামর্শ দিয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিএনপিকে এই বার্তা দিতে বলেছে যে, ‘বিএনপি যদি সন্ত্রাস করে, তাহলে এই দলটিকেও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ইসলামী ছাত্র শিবির, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিজবুর তাহরীর সহ বাংলাদেশের ১৮ টি সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ‘কালো তালিকা’ ভুক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রীতি অনুযায়ী কালো তালিকা ভুক্ত কোনো সংগঠনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংলাপ করে না। তাঁদের কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দেয় না এবং তাঁদের নেতাকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধি নিষেধ আরোপ করে।

ভারতের দূতাবাসের পদস্থ দুজন কর্মকর্তা বিএনপির দুই নেতা রিয়াজ রহমান এবং ড. মঈন খানের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিএনপির দুই নেতাকে জানিয়েছে যে, তাঁদের কাছে এরকম তথ্য আছে যে, সহিংস আন্দোলনে বিএনপিকে সহায়তা করছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এরকম ঘটনা সত্যি হলে বিএনপিকে ‘কালো তালিকা’ ভুক্ত করা হবে। ভারত বলেছে, ভারত সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও চলতি মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসের আশঙ্কা করছে। ইইউ বিএনপিকে জানিয়ে দিয়েছে, ‘দাবি আদায়ের কোনো সহিংস পথকে তাঁরা সমর্থন করে না। বিএনপিকে আদালতের বিষয় আদালতেই মীমাংসা করার পরামর্শ দিয়েছে। বলেছে, নির্বাচন প্রশ্নে মত বিরোধ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে।

শেয়ার করুন
  • 2K
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here