জনতার নিউজঃ

দক্ষতা বাড়লে জ্বালানির ব্যবহার কমবে ১৬ শতাংশ

জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম

ডানিডা এবং নরডিক চেম্বারের যৌথভাবে পরিচালিত জ্বালানি দক্ষতা প্রকল্পের ফলাফলে দেখা গেছে, জ্বালানির দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ১৬ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানির ব্যবহার কমাতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানির খরচ কমবে ২১ শতাংশ এবং কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন কমবে ১৮ শতাংশ।

ডানিডা পরিচালিত দি এনার্জি এফিশিয়েন্ট প্রকল্পের সিনিয়র উপদেষ্টা স্টেফান এনভোল্ডসেন জানান, প্রকল্পে অংশ নেওয়া ৩৬টি কারখানার তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বার্ষিক গড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার করে মোট ৫২ লাখ ডলারের জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব।

দি এনার্জি এফিশিয়েন্ট প্রকল্পের সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এনসিসিআই) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ : শিল্পখাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নে সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়্যা, এনডিসি প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকায়েন হেমনিটি উইন্থরা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়্যা বলেন, শিল্প খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়টি পণ্য উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়াকে সচল রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য ডেনমার্ক দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে শিল্প-কারখানায় গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। তবে দেশের জ্বালানি স্বল্পতা দূর করার জন্য আমাদের অবশ্যই বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে গৃহস্থালী কার্যক্রমে মোট উৎপাদনের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। গৃহস্থালী কাজে এলপিজি ব্যবহার করা সম্ভব হলে শিল্পখাতে এ গ্যাস ব্যবহার করা যাবে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আরো সুদৃঢ় করবে।

তিনি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের পাশপাশি সাধারণ জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মিকায়েন হেমনিটি উইন্থরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আরোও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। ডেনিশ রাষ্ট্রদূত শিল্পখাতে দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ডেনমার্কের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশস্থ রয়েল ডেনিশ দূতাবাসের বাণিজ্য উপদেষ্টা সরেন রোবেন হেগেন বলেন, সবুজ শিল্পায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ডেনমার্ক সারা পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে ডেনমার্ক আগ্রহী। তিনি আগামীতে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান জ্বালানি উৎসের পাশপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে পানি, বাতাস, বর্জ্য, সূর্যরশ্মি প্রভৃতি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জ্বালানি দক্ষতা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ কর সুবিধা প্রদানের পাশপাশি বিশেষ ঋণ প্রকল্প চালু করার প্রস্তাব করেন। তিনি সূর্যের আলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বিল্ডিং কোড প্রণয়ন এবং তা যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোরারোপ করেন।

নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এনসিসিআই) সভাপতি শামীম উল হক বলেন, ব্যবসায় দীর্ঘস্থায়িত্ব ও মুনাফা নিশ্চিতের জন্য দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ খাতে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূলের তৈরি পোষাক আমরা রপ্তানি করতে পারব।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক এবং সারসহ অন্যান্য খাতের শিল্প-কারখানাগুলোতে চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে পারলে, কম খরচে পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি টেকসইযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারকে একটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সহ-সভাপতি খন্দকার আতিক-ই-রাব্বানী, এফসিএ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here