newবাংলাদেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে কিন্তু ভারত বাংলাদেশের ঠিক পাশেই রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের উপলব্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহায়ক হবে। গতকাল সোমবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুকে তিনি এ কথা বলেন।

সালমান খুরশিদকে উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃতীয় কোনো দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করছি না। তবে বাংলাদেশ বিষয়ে দুই দেশের বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কিছু স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ ওয়াশিংটন সফরে আমি এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছি। বিশেষ করে, কিছু অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে এই মতপার্থক্যের বিষয়টি বোঝা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিগত মতভেদ দূর করার চেষ্টা চলছে।

সালমান খুরশিদের বক্তব্য হলো, অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে এ অঞ্চল ও মানুষের মনোভাবের বিষয়ে ভারতের উপলব্ধি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে প্রধানত আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে। বিরোধীদল ও তাদের শরিকরা এ নির্বাচন বর্জন করেছে। এর বাইরে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করা ও এক নেতাকে ফাঁসি দেয়ায় সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া চান অতীতের নির্বাচনের মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

খুরশিদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা প্রকৃতপক্ষেই অনিশ্চিত ও নাজুক। কারণ সরকার ও বিরোধীদল এখন পর্যন্ত নির্বাচন করার জন্য একটি ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। এজন্য ভারতের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, একটি বন্ধু প্রতিম দেশের নির্বাচনে কী হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কোনো পক্ষ গ্রহণ করছি না। তবে গণতন্ত্রের উন্নতির জন্য অন্তত এতোটুকু অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোন সহিংসতা অনুমোদন করা হবে না।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here