rajib hasnatnew

নর্দান ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষকের কটূক্তিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় খুলনা ক্যাম্পাসের এক ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করার ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রকে নানাভাবে হয়রানি ও জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছেন কটুক্তিকারী শিক্ষক রাজিব হাসানাত শাকিলসহ তার অনুসারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনার প্রতিকার, জীবন রক্ষা এবং ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার দাবিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে রোববার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নর্দান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৭ম পর্বের ছাত্র মো. নাঈম।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক শাকিলের নির্যাতনের শিকার ছাত্র মো. নাঈম জানান, এ বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারা পড়াতে দিয়ে শিক্ষক শাকিল কাদের মোল্লার ফাঁসির ঘটনাকে ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ আখ্যায়িত করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ‘ফেরাউনের’ সঙ্গে তুলনা করে ১৫ আগস্টের ঘটনাকে ‘স্বদেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে মন্তব্য করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে ‘বটতলার উকিল’ বলেও কটূক্তি করেন ওই শিক্ষক।naimulমো. নাঈম জানান, শিক্ষক শাকিলের কটূক্তিমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি ক্লাশ বর্জন করেন।

 

যেই ছেলেটিকে কাঁদতে দেখছেন ও কোন সাধারন ছেলে না। ও আমাদের রক্ত। বাংলার রক্ত।প্রতিবাদের রক্ত।
ও লজ্জায় মুখ ঢাকেনি, নির্লজ্জ আমরা বাংলাদেশীরা ওর মুখ না দেখতে পারি তাই ও মুখ ঢেকেছে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা শ্রেনীকক্ষে কমপক্ষে ৬০ অথবা ৭০ জন থাকেন। সবাই তরুন প্রান । এই এতো গুলো তরুন প্রানের সামনে এক শিক্ষক নামক পিচাশ রাজীব হাসানাত শাকিল বলেছিলো,
– কাদের মোল্লার ফাঁসি “অবৈধ”
-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “নাস্তিক”
-জাতির জনক বঙ্গবন্ধু “ফেরাউন”
-রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ খান “বটতলার উকিল”
সব তরুন প্রান চুপ করে শুনছিলো। কেউ হয়তো ভাবতেছিলো বাবা মায়ের এতো কষ্টের টাকায় প্রাইভেটে পড়ে কি দরকার স্যারের সাথে ঝামেলায় যাওয়ায়। কেউ হয়তো ভাবতেছিলো স্যার যা ইচ্ছা তাই বলুক প্রতিবাদ কইরা বিরাগভাজন হইয়া পরীক্ষার নম্বর কম পাওয়ার দরকার। নিজের আত্বপরিচয় সম্পর্কে অচেতন কেউ হয়তো ভাবতেছিলো ” ও মাই গড , এরা এতো খারাপ। স্যার না বললে আজকে জানতামই না। সব মেরুদন্ডীহীন , কাপুরুষ এর মাঝে ছিলো একজন প্রতিবাদী নাঈম।
যাদের আত্বত্যাগের কারনে এই স্বদেশ পাওয়া তাদের হত্যাকারীর শাস্তিকে অবৈধ বলাকে সহ্য করতে পারেনি এই নাঈম ।
পারেনি সহ্য করতে একজন মুসলমান ও নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া নাস্তিক অপবাদ দেওয়া।
সহ্য করতে পারেনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী এই বাংলাদেশের জাতির জনককে নিকৃষ্টতম ফেরাউনের সাথে তুলনা।
সহ্য করতে পারেনি রাস্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের মতো স্বাধীনচেতা আর নিষ্ঠাবান লোককে বটতলার উকিল অবহিত করা।

না সে কোন মারামারিও করে নাই, কিংবা ক্লাসে কোন গোলযোগ কিংবা ভার্সিটিতে তালা কিছুই করে নাই। শুধু নিজের জাত্ব্যাভিমান ধরে রেখে ওই শিক্ষক নামক কলঙ্কের ক্লাস থেকে বের হয়ে আসছিলো।
শুধু এই নীরব প্রতিবাদই তার কাল হয়ে দাড়িয়েছিলো।

Khulna_saja nordan
পরবর্তীতে ঘটনাটি ডিপার্টমেন্টের অ্যাডভাইজার, খুলনা ক্যাম্পাসের ইনচার্জ ও সহপাঠীদেরও জানানো হয়। এছাড়াও খুলনা প্রেক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদ হোসেনসহ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে অবহিত করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে নর্দানের খুলনা ক্যাম্পাসের ইনচার্জ আনোয়ারুল করিম ও শাকিলসহ কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ইউনিভার্সিটির স্টোর রুমে ডেকে নিয়ে জোর করে তাকে দিয়ে একটি সাদা কাগজেও সই করিয়ে নেয় খুলনা ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার পর থেকে নাঈমকে আর রেজিস্ট্রেশন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া তার ছাত্রত্বও বাতিল করা হয়েছে বলে ক্যাম্পাস ইনচার্জ আনোয়ারুল করিম তাকে জানিয়ে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ছাত্র মো. নাঈম। তিনি বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। তার পক্ষে সাত ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালানো কঠিন। যে কারণে জমি ও আমার মায়ের কানের দুল বিক্রি করে আমাকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন। এখন যদি এভাবে ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়, তাহলে আর কোথাও গিয়ে আমার লেখাপড়া করা সম্ভব না।

তিনি এ ঘটনার প্রতিকার ও ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার দাবিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি জানার জন্য বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়স্থ নর্দান ইউনিভার্সিটির খুলনা ক্যাম্পাসে গেলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

 

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here