জনতার নিউজঃ

 

ঢাকা সিটি কলেজের বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে ফুটবল খেলার চাঁদা নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আয়াজ হক (১৬) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়াজ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গভ. ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিল। সে সিটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফুটবল টিমের দলনেতা আশদিন হকের ছোট ভাই। বাণিজ্য বিভাগের দলনেতা ইনজামামুল হক জিসান। কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৪টি ও বাণিজ্য বিভাগের ৬টি গ্রুপের মধ্যে এই ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি গ্রুপের ক্ষেত্রে খেলায় অংশগ্রহণের জন্য ৩ হাজার টাকা চাঁদা নির্ধারণ করে খেলা পরিচালনা কমিটি। এই চাঁদার হার নিয়ে মতবিরোধে দুই বিভাগের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পুরাতন দ্বন্দ্বের জের ধরে আয়াজ হককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ হত্যায় ব্যবহূত ছুরিটি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আশদিন হক, ইনজামামুল ইসলাম জিসানসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবারের সঙ্গে কলাবাগানের নর্থ সার্কুলার রোডের ৬৩/৪ নম্বর বাসায় থাকতো আয়াজ। সদ্য এসএসসি পাস করা আয়াজ গতকাল দুপুরে বড় ভাই আশদিন হকের সাথে ঢাকা সিটি কলেজে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজের দু’টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল খেলার প্রস্তুতির অংশ হিসাবে কমিটি গঠন ও চাঁদা আদায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ঐ আলোচনায় ভাইয়ের সাথে আয়াজও অংশ নেয়। এক পর্যায়ে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দেয় মতবিরোধ। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই দল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলে পড়ে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে স্টার কাবাব রেস্তোরাঁর সামনে থেকে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা এবং হ্যাপি আর্কেড সংলগ্ন এলাকায়। এরই মধ্যে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়াজকে প্রতিপক্ষ ভেবে বাণিজ্য বিভাগের একদল ছাত্র বেধড়ক পিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আয়াজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা আইনজীবী শহীদুল হক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা ঠিক কী ঘটেছে সেটা তার জানা নেই। তবে তার দুই ছেলে এক সঙ্গে সিটি কলেজ এলাকায় গিয়েছিল। পরে কেউ আয়াজকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন আয়াজ। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের থানাপাড়া এলাকায়।

ধানমন্ডি থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান বলেন, নিহত আয়াজ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, না সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংঘর্ষের পরে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু ছাত্রও জড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে সাত জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here