muhit-nasimস্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আজ রবিবার রাজধানীর সিরডার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পর পর একাধিক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একই কথা বলেন। একই স্থানে গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। ভালো স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে এ খাতে বাজেট বাড়াতে হবে। আর আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যুদ্ধ করব। প্রয়োজনে অগুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে কাটছাট করে হলেও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়াতেই হবে।’
মন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, একটি এলাকায় একটি স্টেডিয়ামের তুলনায় একটি হাসপাতাল অনেক বেশি জরুরি। বাজেটের সময় এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতেই হবে। এ জন্য আমি রাজনৈতিক ভাবে আমার দলের ভেতরে এবং জাতীয় সংসদেও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করবো।
হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিটের অনুষ্ঠানে দেশে স্বাস্থ্য খাতে খরচের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে গতানুগতিক ধারায় অর্থ বরাদ্দ না করে জনসংখ্যা ও রোগের বিভাজনের ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয় না বলেও মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এসময় হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিটের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের চিত্র তুলেন ধরেন।
পরে সারা দেশের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের এক সভায় অংশ নেন মন্ত্রী। এসময় সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকরা মাঠ পর্যায়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত এর সমাধান করার জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসময় ইউনিয়ন পযর্ায়ে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার বসার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকা, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অ্যাম্বুল্যান্স ও এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকা, বিকল সরঞ্জামাদি সারানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চিঠি চালাচালি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ, যন্ত্রপাতির সঙ্গে উপযুক্ত জনবল কাঠামো না দেওয়া, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার না দেওয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত পরিবহন না থাকার বিষয়গুলোর নিয়ে মন্ত্রী দৃষ্টি আর্কষণ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় এসব সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের গাড়ির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গ্রামে ডাক্তার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ছাড়া বদলির বিষয়ে কোনো তদবির গ্রহণ না করার জন্যও সবাইকে নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী এ সময় বলেন, অনেক এমপি-মন্ত্রীসহ আরো অনেকে আমার কাছে বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন জনের জন্য তদবির নিয়ে আসে, কিন্তু আমি তাদের না বলে দেই। আপনারাও আমার মতো না বলুন। তাহলে আর কেউ তদবির নিয়ে আসবে না।
মন্ত্রী এসময় একই মঞ্চে বসা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শিফায়েত উল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন ‘ডিজি সাহেব আপনি কোনো বদলি করবেন না। আপনি যদি বদলি করেন তাইলে কিন্তু আপনি নিজেই বদলি হয়ে যাবেন!’
পরে সরকারি পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৪৯জনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সারা দেশের উপজেলা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনদের মধ্য থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিবছর আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে।
এসব অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন, সাবেক সচিব এম এম রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. শিফায়েত উল্লাহ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গণেশ চন্দ্র সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here