Report

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাট করছেন টাইগাররা। ২৪ ওভার শেষে কোন উইকেট ছাড়াই বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৩ রান। এর আগে ৪০ ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ।

অ-অ+

ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলের এই দেশের ক্রিকেট পাগল ১৬ কোটি মানুষকে আগাম ঈদ উপহার দিলো টাইগাররা! ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটিয়ে সবাইকে আরো বেশি আনন্দময় এক ঈদ পালনের সুযোগ করে দিলো বাংলার দামাল ছেলেরা। সোনালী সুযোগ সামনে আসে। কিন্তু তা নষ্ট করতে হয় না। বাধা আসে অনেক। তাকে পেরিয়ে যেতে হয় প্রবল আত্মবিশ্বাস আর দুঃসাহসীকতায়। এক অর্থে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে তো পাত্তা না দিয়েই শেষ দুটি ম্যাচে হারালো বাংলাদেশ। প্রবল দাপটে প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের সিরিজ হারের লজ্জা উপহার দিলো টাইগাররা। ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ২-১। আর শেষ ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় জয়ের রেকর্ড গড়লো টাইগাররা। জয় ৯ উইকেটের। খেলতেই হলো না ৮৩ বল। আর কি চাই!
প্রথম ম্যাচে হারের পর ধাক্কাটা এমন লেগেছিল যে তার পরের ম্যাচেই হুঙ্কার দিয়ে ভেতরের বাঘটাকে বের করে আনে টিম বাংলাদেশ। ঢাকায় জিতলো দ্বিতীয় ওয়ানডে। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের পক্ষে ওয়ানডেতে যে সবকিছুই সম্ভব তার প্রমাণ মিললো তাদের জন্য লাকি গ্রাউন্ড চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সোনালি প্রজন্মের ধারক ও বাহক এই টাইগাররা টানা তিনটি সিরিজ জিতে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো। বিশ্বকাপের আগে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। ফিরে পাকিস্তান ও ভারতের পর এবার টাইগাররা ছিড়েখুড়ে ফেললো প্রতাপশালী আফ্রিকানদের। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও ভারতের পর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ দুই ম্যাচে তো হাসতে হাসতে খুন করে ফেললো টাইগাররা। সেই সাথে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে আরো দুই পয়েন্ট যোগ হলো। এখন বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯৬। ৯৮ ইংল্যান্ডের। বাংলাদেশ থাকলো সপ্তম স্থানেই। কিন্তু ইংল্যান্ডের ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাসটা ঠিকই ফেলে দিয়ে রাখলো।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়<br />

৪০ ওভারে ১৭০ রান অতো বড় টার্গেট নয়। কিন্তু সিরিজ জেতা হারার ম্যাচ বলে কথা। তামিম ইকবালের মিশন ছিল নিজের মাঠে রানে ফেরা। তাতে সফল তিনি। আর সৌম্য সরকারের দায়িত্ব ইনিংসটাকে বড় করা। করতে করতে হঠাৎ আউট হয়ে ফিরে আসা নয়। দুই ওপেনার প্রাথমিক অবস্থায় সম্মান দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের। কিন্তু আক্রমণের সময় আসতে দেরী হয়নি। দুই ওপেনার কি বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ ব্যবধান ১০ উইকেটের জয়ের পণ নিয়ে ফেরার কথা ভেবেছিলেন! মাঠে নেমেছিলেন তাই ভেবে? বৃষ্টির কারণে পাওয়ার প্লে হলো ৮ ওভারের। ওখানেও আগ্রাসন। দুজনে মিলে ৫৫ রান তুলে ফেললেন। তামিম রয়ে সয়ে খেলেছেন শুরুতে। আগের দুই ম্যাচে মাত্র ৫ রান করেছেন। কিন্তু আগের ম্যাচের সেরা সৌম্য তার আগ্রাসী চেহারার পুরোটাই দেখিয়েছেন উইকেটের চারপাশে খেলে। ৪১ বলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি করলেন। এবার বল নিলেন ৪১টি। ৮টি বাউন্ডারি।
এই দুই ওপেনারের ক্ষমাহীন নির্মমতায় মর্কেল, রাবাদা, তাহিরদের মতো বোলারদের বড্ড সাদামাটা মনে হলো। আর বাংলাদেশী দুই যুবা যেভাবে খেলে গেছেন তা বিশ্বের তাবৎ ক্রিকেটপ্রমীদের তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার কথা। সাবাস বলার কথা। দুর থেকে পিঠ চাপড়ে দেয়ার কথা। দুই ম্যাচে ব্যর্থ হবার পরও তামিমের ঘুরে দাঁড়ানো তো ক্রিকেটের ফেরার বিজ্ঞাপন। ৩১তম ফিফটি করেছেন তামিম। আর সৌম্যর কম বয়সের মাথায় পরিণত ভাবনা। তার ইনিংসগুলো বড় হওয়ার পথে শেষ হয়ে যাচ্ছিলো। আগের ম্যাচে অবশ্য অপরাজিত ছিলেন ৮৮ রানে। এবার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে দাড়িয়েছেন। তার ৯০ রান। দলের তখন জয়ের জন্য দরকার ১৬। তবু দল তাকে দিয়ে সেঞ্চুরি করাতে চাইল। সেভাবেই শেষের দিকের খেলাটা চলল। কিন্তু শেষটায় ভাগ্য তার সঙ্গ দিলো না। ৭৫ বলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায় সেই ৯০ রানেই বিদায় সৌম্যের। ভাঙ্গে ১৫৪ রানের জুটি। জয় তখন সামান্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তামিম ৭৭ বলে ৬১ রানে ফর্মে ফিরলেন ৭টি চারের মারে। অপরাজিত তিনি।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here