সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ জুন উদ্বোধন করা হবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কেক কাটার মাধ্যমে নতুন ভবনে দলীয় কার্যক্রম শুরু হবে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে নির্মাণ কাজ। এখন চলছে ঘষামাজা ও সাজসজ্জার কাজ। দলীয় সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম, সম্পাদকমণ্ডলী এবং সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ের ডেকোরেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বমানের দলীয় কার্যালয়টি। পুরো কার্যালয়টি থাকবে ওয়াইফাই জোনের আওতায়।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ  বলেন, ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওইদিন কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানিয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে ওঠা উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আমরা নতুন কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম শুরু করব। রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ১০ তলা আধুনিক কার্যালয়টির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২৩ জুন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই পুরনো ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। নতুন ভবন নির্মাণে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

কার্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, সামনে স্টিলের বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। পাশেই দলীয় প্রতীক নৌকা। সবার উপরে রয়েছে জাতির জনকের ম্যুরাল। এরপর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরাল। দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৭, ৮ ও ৯ তলায় থাকবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের জন্য আলাদা রুম। বিভিন্ন তলায় থাকবে ডিজিটাল লাইব্রেরি, সেমিনার রুম, সাংবাদিক লাউঞ্জ। দুটি স্বতন্ত্র কার পার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ৪ ও ৫ তলায় থাকবে সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের কার্যালয়।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পুরনো অফিস ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের চারতলা ভবনটি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লিজ গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১১ সালে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দলটি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল নতুন কার্যালয়ের নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ভবনে অবস্থিত দলের সব সহযোগী-অঙ্গসংগঠনগুলোকে ওই বছরের ৩০ মের মধ্যে অফিস সরানোর জন্য নির্দেশনা দেন। পরে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যালয় স্থানান্তরিত হওয়ার পর ওই বছর ১৭ জুলাই পুরনো স্থাপনা ভাঙা শুরু হয়।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। ১৯৫৩ সাল থেকে ৯ কানকুন বাড়ি লেনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হতো। ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬, সিমসন রোডে দলের অফিস করা হয়। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১, নবাবপুর রোডে দলের অফিস নেন। এর কিছু দিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে কিছু দিন বসেন নেতারা। পরে পুরানা পল্টনে দুটি স্থানে দীর্ঘদিন দলের অফিস ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ১২২, সার্কিট হাউস রোডে কিছু দিনের জন্য আওয়ামী লীগের অফিস ছিল। পরে আবারও পুরান ঢাকার নবাবপুরে অফিস স্থানান্তর হয়। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ার পর ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর বর্তমান অফিসটি ভাড়া নেওয়া হয়।

শেয়ার করুন
  • 40
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here