পানগাঁও পৌঁছাচ্ছে ৭৬ কন্টেইনার

container
দেশে প্রথমবারের মতো নদীপথে বাণিজ্যিকভাবে কন্টেইনার পরিবহন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় ৭৬টি কন্টেইনার নিয়ে কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘পানগাঁও সাকসেস’ চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যায়। আজ মঙ্গলবার সকালে জাহাজটি ঢাকার পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিরোধী দলের লাগাতার অবরোধ ও হরতালের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে পড়া ঢাকামুখী কন্টেইনার নদীপথে পরিবহনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত বুধবার রাতে নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদীপথে কন্টেইনার পরিবহন ব্যবসায়ী তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিনিয়ত চট্টগ্রাম বন্দর-পানগাঁও রুটে কন্টেইনার পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নদীপথে কন্টেইনার পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হলেও কিছু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় এতোদিন এই কার্যক্রম চালু করা যায়নি। বিশেষ করে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারসমূহ পানগাঁও টার্মিনালে পৌঁছাতে হলে আমদানিকারকগণকে তাদের আমদানি এলসিতে (ঋণপত্র) তার উল্লেখ করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পানগাঁও টার্মিনালকে এলসি স্টেশন ঘোষণা করতে হবে। এরপরই পানগাঁও টার্মিনালে পৌঁছার পর কাস্টমস বিভাগ পণ্য শুল্কায়ন করতে পারবে। আবার এলসিতে পানগাঁও-এর উল্লেখ থাকলে নদীপথে যে কোন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কাভারেজও আমদানিকারক পাবেন। উল্লিখিত প্রক্রিয়াসমূহ এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। জানা যায়, বর্তমান অবস্থায় পণ্যবাহী কন্টেইনারের শুল্কায়ন চট্টগ্রাম বন্দরে সম্পন্ন করা হয়েছে।

গতকাল যে ৭৬টি কন্টেইনার নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম ছেড়ে আসে তার মধ্যে ৫০টি খালি এবং ২৬টি পণ্যভর্তি। এগুলোতে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিসসহ অন্যান্য পণ্য রয়েছে। জাহাজটিতে চালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার হাবিবুল আলম। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে ২০-২২ ঘণ্টা লাগবে। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দরে গতকাল প্রায় ২৮ হাজার পণ্যবাহী কন্টেইনারের স্তূপ ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নদীপথে কন্টেইনার পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে বিআইডব্লিউটিএ ঢাকার অদূরে পানগাঁও টার্মিনাল নির্মাণ করে। এ রুটে চলাচলের জন্য সরকার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কন্টেইনারবাহী জাহাজের অনুমতি দেয়। কিন্তু দেখা যায়, টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও বেসরকারি উদ্যোগে কোন কন্টেইনার জাহাজ নামানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে কন্টেইনারবাহী জাহাজ ক্রয় করে। বন্দর কর্তৃপক্ষের ৩টি রিকন্ডিশন্ড জাহাজের মধ্যে ২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এর একটির নাম পানগাঁও সাকসেস এবং অপরটি পানগাঁও এক্সপ্রেস।

আজ পানগাঁও এক্সপ্রেস জাহাজটিও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার নিয়ে পানগাঁও-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে বলে বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার এনামুল করিম জানান। জাহাজ দুটির প্রত্যেকটি ১২৮টি কন্টেইনার পরিবহন করতে সক্ষম।

জানা যায়, পানগাঁও টার্মিনাল থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনারও জাহাজগুলোতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। জাহাজগুলো উভয়মুখে মাসে সর্বোচ্চ ৬ বার করে চলাচল করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here