latifমেহেদী হাসান

 

প্যাট্রিওট কবিতা পড়েছিলাম । ……. একজন ইংল্যান্ডের যোদ্ধা , যিনি কিনা সাহসীকতার সাথে লড়েছিলেন । মাতৃভূমিকে ঊচু করতে, জাতির পক্ষে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন । .. যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার । বীরযোদ্ধা তার সাহসীকতা দেখিয়ে মাতুভূমির মান উচু করেন । .. বিজয়ী বেশে যখন তিনি দেশে ফিরছিলেন তখন চারেদিকে জয়ধ্বনি উচ্চারিত , আকাশ বাতাশ ছেয়েগেছে তার জয়গান । গীর্জার ঘন্টা বাজছে , পুশ্পবৃষ্টি হচ্ছে, জনগণ মালা দিয়ে বরন করছে, পরিবারের সবার বুক গর্বে ফুলে উঠছে । .. এবার বীর শহরের গেটে ঢুকলেন, জনগণ তাকে আবেগে জড়িয়ে ধরল, সবাই তাকে সেল্যুট দিচ্ছিল । চারেদিকে শুধু তারই জয়গান । ….কিন্তু…. কয়েক বছর পর !! আর্মি বিভাগে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হল , তাকে দেশদ্রোহী প্রমাণ করা হল । অভিযোগ মিথ্যা ছিল , কিন্তু বীর প্রতিবাদ করেননি । শুধুই মানুষের আবেগ পর্যবেক্ষণ করছিলেন । তিনি বিশ্বাসের পরিক্ষা নিচ্ছিলেন । …. বীর দেশদ্রোহীতার অপরাধে শাস্তির জন্য মনোনিত হলেন! ….তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই গীর্জাতে যেখানে তার সন্মানার্থে ঘন্টাধ্বনি বেজেছিল । আজ সবাই তাকে দেখে জুতো সেন্ডেল মারছে , সবাই ঘৃণা ভরে তাকাচ্ছে , সবাই তাকে গালি দিচ্ছে ! … যোদ্ধা নিরবে দেখছেন আর কাঁদছেন !! ভাবছেন, জীবণের তরে তোমাদের জন্য যুদ্ধ করলাম আর আজ তোমরা আমাকে এভাবে মূল্যায়ণ করছ !! সেদিন এই পথেই আসলাম তোমরা আমাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন দিলে, আজ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আমি পড়েছি, তোমরাও আমাকে অবিশ্বাস করলে । জনগণের দিকে দেশপ্রেমিক অভিমানের চোখে শুধু তাকালেন । আর তার জন্য নির্ধারিত মৃত্যুদন্ড শাস্তি মাথা পেতে নিলেন!
** গতকাল জেলগেটে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দেখে কবিতার বাস্তবতা মনের মধ্যে ফুটে উঠল । ভাবলাম, ইনি সেই লতিফ যিনি বীরমুক্তিযোদ্ধা , জীবণ বাজি রেখে যুদ্ধে নেমেছিলেন মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে মৃত্যুকে পরওয়ানা করে । মুক্তিযুদ্ধে সাংগঠনিক তিনি । তিনি স্বাধীনতাকে লালন করেছিলেন বুকের মাঝে । যাকে দেশের শ্রেষ্ঠসন্তান উপাধি দেয়া হয় আর দশটা মুক্তিযোদ্ধার সাথে । সেই লতিফের একটি ভুল বাংলার মানুষ ক্ষমা করতে জানেনা !! লতিফ সিদ্দিকী পাট্রিওটের মত শুধু দুহাত উচু করে মার্জনা-বিনতী করে করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন জাতির কাছে ! তার অনুতাপের কথা তিনি মুখে না জানালেও তার পক্ষে উকিল নিয়োগ না দিয়েই বুঝালেন আমি ভুল করেছিলাম তার খেসারত দিতেই দেশের আইনকে শ্রদ্ধাভরে মেনে ফিরে এসেছি , যা থাকে ভাগ্যে তা মানতে এসেছি ! জনগণের প্রতি তার বিশ্বাস ছিল, জনগণের দিকে অভিমানী চোখে তাকালেন । রাজাকার সব সময় সুযোগে থাকে মু্ক্তিযোদ্ধাদের ঘায়েল করতে, গতকালও এক রাজাকার-তনয় তার দিকে থুথু নিক্ষেপ করেছে , জুতা মেরেছে গাড়িতে ! লতিফ সিদ্দিকী মেনে নিলেন আর তার অভিযোগ অভিমানী চোখেই বিসর্জন দিয়ে জেলের মধ্যে ঢুকে গেলেন !!!

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here