ONION
পেঁয়াজ নিয়ে আবার সংকটে পড়েছে ভারত সরকার। এক মাস আগে সরকার দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য পেঁয়াজের রপ্তানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন অতিরিক্ত উত্পাদনের কারণে পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে। ঠিক নির্বাচনের আগে পেঁয়াজচাষিদের রোষানলে পড়েছে কংগ্রেস সরকার।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার এশিয়ার অন্যতম বড় পাইকারি বাজার লাসালগাঁতে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম সাড়ে নয় রুপিতে নেমে আসে। কৃষকেরা এ অবস্থায় সাময়িকভাবে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন।
যদিও গত এক মাস ধরে কৃষকনেতা ও পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য (এমইপি) কমানোর মাধ্যমে অধিক উত্পাদিত পেঁয়াজের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। সরকার এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশের মতো সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য কমিয়েছে।
গত নভেম্বরে তীব্র সংকটের কারণে ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। যার কারণে সরকার সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি করে এবং রপ্তানি প্রায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ নয় থেকে ১০ রুপিতে (১১ থেকে সাড়ে ১২ টাকায়) বিক্রি হচ্ছে এবং আগামী মাসে তা পাঁচ টাকার নিচে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার প্রতি টন পেঁয়াজের দাম এক হাজার ১৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৮০০ ডলারে নিয়ে এসেছে।
কৃষকেরা দাবি করছে, সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য ৩০০ ডলার করতে হবে, যাতে অন্য দেশের আমদানিকারকেরা আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ভারতের জাতীয় উদ্যানবিদ্যা গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক হরি প্রকাশ শর্মা বলেছেন, ‘প্রতিবছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজের জোগানে ঘাটতি অস্বাভাবিক কিছু নয়। অক্টোবরের শেষ দিকে টাটকা পেঁয়াজ বাজারে চলে আসে। গ্রীষ্মকালের রবি ফসলকে অভাবকালীন মাসগুলোর জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আরও গুদাম তৈরি উত্সাহিত করতে হবে। গ্রীষ্মকালীন রবি ফসলকে (পেঁয়াজ) অনেক দিনের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

গত এক মাসে ভারতীয় খুচরা বাজারেও পেঁয়াজের দাম হ্রাস পেয়েছে। গত মঙ্গলবারের সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুচরা বাজারে পেঁয়াজ সাড়ে নয় রুপি (১১ টাকা) কেজি করে বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here