Birds‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন সবাই করি যত্ন’ এ স্লোগানে গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘পাখিমেলা ২০১৪’। পাখি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে পালন করা হয় এবারের পাখিমেলা। সকাল নয়টায় জহির রায়হান মিলনায়তন চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. এম এ মতিন পাখিমেলা উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. অপরূপ চৌধুরী, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও আইইউসিএন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে।

মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ জানান, পাখিমেলার ধারণা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তাকে তুলে ধরে। তিনি বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতে হাঁস জাতীয় যে পাখি আমাদের জলাশয়গুলোতে আসে সেগুলো আসলে পরিযায়ী পাখি নয়, এগুলো আমাদের দেশি পাখি। শুধু শীতের সময় এদের দেখা যায় বলে অনেকে এদের পরিযায়ী পাখি হিসেবে চিনে থাকেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবছর যে পাখি আসে তার মধ্যে রয়েছে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক ও পাতারী অন্যতম। এছাড়া মানিক জোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি প্রভৃতি পাখি এদেশে অতিথি হয়ে আসে প্রতিবছর। এ সময় হিমালয়ের উত্তরে শুরু হয় প্রচণ্ড শীত ও তুষারপাত। অবিরাম তুষারপাতে ঐ অঞ্চলে বসবাসরত পাখিরা থাকতে পারে না। ফলে এরা নিজেদের বাঁচাতে ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এসব অতিথি পাখি বাংলাদেশের হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি এলাকায় ক্ষণস্থায়ী আবাস গড়ে। তার মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পাখি সংরক্ষণে গণ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পাখিমেলার আয়োজন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, অডিও ভিডিও’র মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। শেষে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান। পাখিমেলায় মোট ৫ ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতায় ২৮ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অধিকার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পাখি চেনা প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতায় বন বিভাগকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া শিশুদের পাখি বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দুই গ্রুপে পুরস্কার বিতর করা হয়। মেলায় বিভিন্ন জীব-বৈচিত্র্য এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের স্টলে পাখির সম্বন্ধে জানতে ভিড় করে তরুণ-তরুণী, শিশু সবাই। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মেলা আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম বিগবার্ড অব দ্যা ইয়ার ২০১৪ সম্মাননা প্রদান করা হয়। বছরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দুষ্প্রাপ্য ও বিলুপ্তপ্রায় পাখি দেখার জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তা মনির খান ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া খান প্রথম, রেজাউল হাফিজ দ্বিতীয় এবং কিরণ খান তৃতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া গতকাল ‘নগরে পাখিরও আবাস চাই’ স্লোগান নিয়ে র্যালি ও মানববন্ধন করেছে ‘সবুজ পাতা’ নামক একটি সংগঠন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here