Report

পল্লবী থানার দুই দারোগাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

চাঁদাবাজির অভিযোগে পল্লবী থানার দুই দারোগা (এসআই)  জাহিদুল ইসলাম ও জুবায়ের হোসেনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার আদালতে লাবনী নামে এক নারী এ মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার নিচে নয় এমন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনা তদন্ত করিয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য মিরপুর জোনের পুলিশের উপ-কমিশনারকে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জনৈক সাইফুল ইসলাম, আমানউল্লা, রুবেল, সিরাজ বক্স, হারুন, আকতার, মিজান, ইমরান, নূর আলম, সুরুজমিয়া, জৈন উদ্দিন, মাঈন উদ্দিন, সাঈন উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, ইয়াছিন শেখ ও আবুল হোসেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন মিয়া বলেন, ‘‘গত মে মাসে পল্লবীর আলী নগর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চঞ্চল নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জনৈক মোমিনসহ বেশ কয়েকজন। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে কয়েক দফায় অভিযান চালায়। তিনি আরো বলেন, এ মামলার বাদী চঞ্চল হত্যা মামলার আসামি মোমিনের আপন ভাগ্নি।’’

মামলার বিবরণে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ মে মিরপুর আলীনগর হাউজিংয়ের পাশে বাদী লাবনীর মামা মোমিনসহ কয়েকজন শ্রমিক হ্যাবিলি প্রপার্টিজের  কাজ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ও আমানউল্লাসহ ১০-১২ জন তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ওই মাসের ১৪ তারিখে তারা কাজ করতে গেলে আসামিরা কাজে বাধা দেয়। এ সময় তারা চাঁদাবাজি মামলার বাদীর ভাই রাজিব ও তার মামা মোমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এরপর কোনো কারণ ছাড়া পল্লবী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল থেকে তাদের আটক করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী ৫০ হাজার টাকা দেয়। এরপর ১৮ মে পল্লবী থানার অপর এসআই জুবায়ের পল্লবীর সিরামিক রোডে বাদীর শ্বশুরকে হোটেল থেকে পুলিশের গাড়িতে তুলে লাঠিপেটা করেন। এ সময় বাদীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বাদী ২০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা না দেওয়ায় তাদের ২০টি রিকশা নিয়ে যায় পুলিশ। এ ছাড়া বাদীর পরিবারের সদস্যদের হত্যা মামলায় জড়ানোরও হুমকি দেয় পুলিশ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here