ইয়াসিন করিমঃ জনতার নিউজ

নির্বাচন করার মত পরিবেশ ও পরিস্থিতি এখন দেশে আছে কিনা ভেবে দেখতে হবে। নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। একদিকে নির্বাচনী হাওয়া অন্যদিকে চলছে সাধারন জনগণের উপর আন্দোলনের নামে নির্যাতন। প্রতিদিন মানুষ পুড়িয়ে মারছে একপক্ষ আর অন্যপক্ষ মানুষের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হচ্ছেন না। তাহলে কি এই দেশের রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে অক্ষম? যেই সাধারন জনগণের কল্যাণে রাজনীতি, গণতন্ত্র সেই মানুষ এখন কতটা নিরাপদ? দিনের পর দিন নিরীহ জনতার উপর যারা নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে তারাই নাকি জনতার সাপোর্ট নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার মত বিবেকবান মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। গত ১০ মাস থেকে যেই নির্যাতন, নিপীড়ন রাজপথে চলছে তা নিয়ে কি এই দেশের কর্তা বাবুদের কোন রা আছে? আন্দোলনের নামে দিনের পর দিন মানুষের উপর নগ্নহামলা এতটাই চরম পর্যায়ে গেছে যে জনতার কাতারে দাঁড়ানো থাকলে কথা না বলে আর উপায় নেই। সবাই নিজ নিজ স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের মতকরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, নিরুপায় শুধু এই দেশের সাধারন জনগণের। রাজপথে আন্দোলনের নামে নগ্ন সন্ত্রাস অব্যাহত, সন্ত্রাসের উপাদান অব্যাহত কিন্তু সরকার কতটা দমন করতে পারচ্ছে এই সন্ত্রাসকে? দিনের পর দিন লাশের মিছিলে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক নিরীহ জনতার নাম, লুটপাট হচ্ছে বাড়ি এবং দোকানপাট, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে গনপরিবহন। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কাছে আচল হয়ে যাচ্ছে সারাদেশ, মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। এই সন্ত্রাস নির্মূল না করে এবং সন্ত্রাসের সারঞ্জাম উদ্ধার না করে এই দেশে কি নির্বাচন করা সম্ভব? রাজনীতির মাঠে সরকার বা প্রতিপক্ষ একান্ত জরুরী এবং আবশ্যক। সরাকারের সমালোচনা না হলে গণমুখী কার্যক্রম থেকে সরকার দূরে সরে যায় এই কথা সবাই জানে এবং মানে। সকারের পতনের জন্য যেই চলমান আন্দোলন বি এন পি চালিয়ে যাচ্ছে তার অধিকার বি এন পি জোটের আছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে সাধারন মানুষকে পুড়িয়ে মারার অধিকার বি এন পি জোটকে কে দিয়েছে? মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দলনে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকে এবং গনআন্দোলনের মুখে দাবি আদায় হয় এটা খুব সাধারন একটা বিষয়। কিন্তু নেতারা যেভাবে গোপন স্থান থেকে নির্দেশনা দিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে তাতে বলতেই হয় এই আন্দোলন জনগণের আন্দোলন নয়, এই আন্দোলনের মাধ্যমে বি এন পি জোট অন্য কোন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নেই বললেই চলে। অতিকথন দোষে দুষ্ট লোকদের খপ্পরে পড়েছে সরকার, কাজের চেয়ে কিছু কর্তা বাবু বেশি কথা বলে যাচ্ছেন এটা সবার চোখে দৃশ্যমান। দেশের মানুষের জীবনের এবং সম্পদের নিরাপত্তা সরকারকেই দিতে হবে। সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে না পারলে সরকার অকার্যকর হবে এটাই স্বাভাবিক।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here