jamat 3

নাসির দ্রুব তারাঃ নোয়াখালী প্রতিনিধি জনতার নিউজঃ

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১১টি জেলাকে জামাত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সনাক্ত করে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান । এই ১১টি জেলার মধ্যে ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী উল্লেখযোগ্য । এখানে বিগত ২০১২ থেকেই চলছে চরম জামাতি নাশকতা ও ব্যাপক তান্ডব । শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির লোক নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ও হয়েছেন এই তিন জেলায় জামাতি হামলার স্বীকার ।শহীদ মিনার, সংখ্যা লঘুদের বাড়িঘর-উপাসনালয়, আওয়ামীলীগের অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল অফিস, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি স্থাপনা কিছুই বাদ যায়নি এদের নগ্ন হামলা থেকে । ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী জেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে জামাতি তান্ডব কিছুটা হ্রাস পেলে ও আসেনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য । যার কারন হচ্ছে রাজাকার জামাত এই তিন এলাকায় নিজেদের অবস্থান তৈরীতে বেছে নিয়েছেন অন্যরকম পন্থা । তারা তিন জেলায় গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন ব্যাবসায়িক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়গনস্টিক ক্লিনিক । এদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাংক-বীমা, ডেভলপার-মাল্টিপারপাস কোম্পানী, বই দোকান রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসা তো আছেই সেই সাথে যোগ হয়েছে বিভিন্ন ক্যাডেট স্কুল, কলেজ, মহিলা মাদ্রাসা আর কোচিং সেন্টার, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার প্রভৃতি ।সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ডায়গনস্টিক সেন্টার, ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র, দাওয়াখানা সহ হাসপাতাল পযন্ত ।এই জেলা গুলিতে ইসলামি ব্যাংক, ফারইস্ট লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানী, ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানী, নোফেল ডেভলপার এন্ড হাউজিং, নদী বাংলা ডেভলপার এন্ড হাউজিং, ওফা ডেভলপার এন্ড হাউজিং, স্কলারস ডেভলপার এন্ড হাউজিং, রেসিডেন্টসিয়াল স্কুল, রেসিডেন্টসিয়াল কলেজ, রেসিডেন্টসিয়াল মাদ্রাসা, রেসিডেন্টসিয়াল প্রিক্যাডেট একাডেমী, রেসিডেন্টসিয়াল মহিলা মাদ্রাসা, আল-ফারুক স্কুল, এশিয়া ট্রমা হাসপাতাল, রেটিনা কোচিং সহ বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার ১ম নিয়ন্ত্রন কক্ষ বা মূল কন্ট্রোলরুম আল-মাদ্রাসাতুল দ্বীনিয়া (গোদার মসজিদ সংলগ্ন, আলীপুর, ৫নং ওয়াড, নোয়াখালী পৌরসভা, সদর, নোয়াখালী ) , আর বেইস ক্যামপ হলো ফেনী পৌরসভা রোডে ফেনী ফালাইয়া মাদ্রাসা যা কিছুদিন পূবে উত্তেজিত জনতা আগুন ধরিয়ে দেয় ।কিন্তু আল-মাদ্রাসাতুল দ্বীনিয়াটি আছে একে বারি সুরক্ষিত অবস্থায়। এ প্রতিষ্ঠানটির ভেতর স্থায়ী নিবাস (পরিবার-পরি জনসহ) জেলা জামাতসহ এর অংগ সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের । ১৯৯১ সাল থেকে মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহন এর আগ পর্যন্ত ইসলামী মহাসম্মেলন নামে তিন-চার দিনের ইসলামী ওয়াজ মাহফিল আয়োজিত হতো নোয়াখালী জিলা স্কুল ময়দানে প্রতিবছর, আর এতে প্রধান অতিথি হতেন একাত্তরের ঘৃন্য দেইল্লা রাজাকার ওরফে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী । আর তার অবস্থান বরাবরই হোত এই আল-মাদ্রাসাতুল দ্বীনিয়া । ইতিপূর্বে অস্ত্র উদ্ধারসহ বহু অভিযান এ জেলায় পরিচালিত হলে ও এ স্থানটি সবসময় ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে, এমনকি ১/১১ এর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় ও । বিগত ১২ই ফেব্রুয়ারী ২১১৩ জামাত-শিবিরের হামলায় আহত হন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কমকতা মীর জাহিদুল হক রনি, ভারপ্রাপ্ত কমকতা তদন্ত নিজাম উদ্দিন সহ ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য, পুলিশের ব্যবহৃত শটগান ছিনিয়ে পৌরবাজারের সামনের নদমায় ফেলে দেওয়া হয় এবং একজন এসআইকে আল-মাদ্রাসাতুল দ্বীনিয়ার প্বার্শবর্তী পুকুরে আহত করে ফেলে দেওয়া হয় । তখন পুলিশসহ উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটি তে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবেশ করলে পাওয়া যায় নাশকতায় ব্যাবহৃত কয়েকশত গাবের লাঠি, সরকার বিরোধী কয়েক হাজার লিফলেট, সিঁডি, ডিভিটি ও একটি মেটাল ডিক্টেটর । এর পাশে অবস্থিত ৫নং ওয়াড এর কাজী অফিসটি জেলা জামাতের আমিরের যা আমিন প্লাস্টিক দোকান । ঐ মার্কেটটিও জামাতের শক্তিশালী ঘাঁটি, এছাড়া জেলা জামে মসজিদ মার্কেটে স্টুডেন্টস লাইব্রেরী রয়েছে ১০-১২টি জামাতি দোকান-যেখান থেকে পরিচালিত হয় জামাতের কর্মসূচী । এছাড়াও বিগত ২৮/০২/২০১৩ তারিখে বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ উপজেলার হিন্দুবসতী-উপসানলয়ে চালানো হয় ব্যাপক তান্ডব । ঐ একইদিন নোয়াখালী পৌর এলাকা, লক্ষীপুর চন্দ্রগঞ্জ বাজারে সোনার দোকান লুঠসহ চালানো হয় ব্যাপক নাশকতা ।তখন বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমানউল্ল্যাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রাজগঞ্জ ও চন্দ্রগঞ্জ বাজারে নাশকতায় জড়িত থাকার সরাসরি অভিযোগ উঠে । আরো জানা যায় এই চেয়ারম্যান ২০১০সালে নিজ ইউনিয়ন কাউন্সিল অফিসে ২৬মাচ উড়িয়েছেন কালো পতাকা এবং যে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা হয় জেলা প্রশাসক বরাবর ও তিনি তা বেগমগঞ্জ উপজেলা নিবাহী কমকতাকে তদন্ত করতে দিলেও তদন্ত রিপোট আলোর মুখ দেখেনি আজ ও । শুধু তাই নয় এই জামাতি চেয়ারম্যান উক্ত এলাকার ৯নং ওয়াডে বসবাসরত মিজান নামে একজন প্রগতিশীল তরুনকে গনজাগরন মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারনে তাকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয় । এই জামাতি চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকা শিবির সন্ত্রাসীরা চৌমুহনী পলিটেকনিক্যালের সামনে অবস্থিত ক্যান্টিনটি ব্যাপক ভাংচুর করে। কারন এতে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন সহ সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে অবদান রাখা সকল জাতীয় নেতা ও বীর শহীদের ছবি লাগানো ছিল, তাদের দাবি ছিল ৫২ এর ভাষাসৈনিক হিসেবে রাজাকার গো-আযমের ছবি লাগাতে হবে এবং তা না করায় উক্ত ক্যান্টিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ সকলের ছবি ছিড়েকুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয় । অবাক করার মত হলে ও সত্য তখনকার বেগমগঞ্জ থানার তদন্তকারী কমকতা এ বিষয়ে কোন মামলা থানায় নেননি, পরে উক্ত ওসিকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয় । এ যাবত কালে বিভিন্ন নাশকতার অভিযোগে শতাধিকের কাছাকাছি পুলিশবাদী মামলা রুজ্জ করা হয় এই তিনটি জেলার সংশিষ্ঠ বিভিন্ন থানায় । কিন্তু অনুসদ্ধানে দেখা যায় এসব মামলার অধিকাংশ আসামী কাকতালীয়ভাবে বেশীরভাগ মামলায় জামিন পেয়েছেন যার বেশীরভাগই নিম্ন আদালত থেকে । নোয়াখালী মাইজদীতে রয়েছে নোফেল ডেভোলাপার এন্ড হাউজিং এর কপোরেট অফিস, এর শাখা অফিস রয়েছে ঢাকা-চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে । অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি চট্রগ্রাম বিভাগের জামাতি নাশকতার ৭০% খরচ বহন করে । এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সমন্বয়কারী ও এক্সিকিউটিভ শেয়ার হোল্ডার ইকবাল ওমর ফারুক ওরফে ইকবাল ফারুক যিনি এশিয়া ট্রমা হাসপাতালের চেয়ারম্যান তিনি সমন্বয় করেন বেশীরভাগ নাশকতার টাকা আদান প্রদানে । তার বিরুদ্ধে মামলা নং-৫৩, তারিখ- ২৮/০২/২০১৩ ইং সহ ১০টির উপরে পুলিশবাহী মামলা রয়েছে । কিন্তু জনৈক ব্যাক্তি নাকি জামিনে, আর সকল জামাতি মিছিল-মিটিং-অবরোধে তার প্রকাশ্য অংশগ্রহন চোখে পড়ার মত । মূলত এই তিন জেলার নাশকতা কারীদের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ । নোয়াখালীর জামাতি নেতা মনির, মিজান, মেজবাহ, চেয়ারম্যান আলমগীর, সাইমের এই তিন জেলার প্রায় কর্মসূচীতে দেখা যায় । এই তিন জেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে সফলতার জন্য প্রথম সনাক্ত করতে হবে জামাতি প্রতিষ্ঠান গুলি, এছাড়া ও রয়েছে শতাধিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ম্যাস, বিভিন্ন ছাত্রাবাস এবং বেশ কিছু সুনিদিষ্ট মসজিদ-মাদ্রাসা (শলা পরার্মশ কেন্দ্র)। এসব গুলি জায়গা সনাক্তকরণ এবং সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমেই সম্ভব জামাতি নাশকতাকারীদের গ্রেফতার ও পুরোপুরি নাশকতা মুক্ত এলাকা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা । (চলবে……)
jamat camp

 

 

 

 

 

ছবি জামাতের মূল ক্যাম্প

 

 

 

 

 

 

jamat 2

 

 

 

 

 

 

জামাতি তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ রাজগজ্ঞ ইউনিয়নে হিন্দু উপসানলয়

jamat 3

 

 

 

 

 

জামাতের মূল কেন্দ্র থেকে উদ্ধার হওয়া সরকার বিরোধী লিফলেট ,

সিডি, ডিভিডি এর কিছু এক পুলিশ সদস্যের হাতে

 

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here