newনাসির দ্রুব তারা, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ জনতার নিউজ

নোয়াখালী পৌরসভায় শীতকালীন মহড়ার মাঝে মহুরম আবদুল মালেক উকিল সড়কে (প্রধান সড়ক) সেনাসদস্যদের টহলে স্বস্তি ফিরে আসছে জনমনে বিগত ২১/১২/২০১৩ইং তারিখে দুপুর আনুমানিক ১২টা ১টা নাগাদ মাইজদী আবদুল মালেক উকিল সড়কে (প্রধান সড়ক) সেনাসদস্যদের দুইটি টহল জিপ দেখা যায় । এসময় টহলযান দুটি অত্যন্ত মন্থর গতিতে উত্তর দিক থেকে দক্ষিন মুখে এবং বিপরিত দিক থেকে পুনরায় বেশ কয়েকবার টহল দিতে দেখে জনমনে স্বস্তির একটা মৃদু হাওয়া বইতে দেখা যায় । এই স্বস্তিটা বেশী পরিলক্ষিত হয় ৬নং ওয়াডের দত্তেরহাট ও পাশের এলাকা গুলোতে খুব বেশী, কারন বিগত অবরোধের সময় দত্তেরহাট বাজার সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পসহ তৎসংলগ্ন আশেপাশের এলাকায় চলেছে সবচেয়ে বেশী ককটেলবাজি অবরোধ নামীয় সন্ত্রাস । শুধু দত্তেরহাট বাজার সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পেই ভাংচুর হয়েছে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল, সেই সাথে চরম নাজেহাল করা হয় মোটরসাইকেল চালকদের, তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মূল্যবান ব্যবহৃত সকল জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যায় । সন্ধ্যার পর একদল মদ্যপ লোকজনকে পিকেটারদের সাথে উক্ত স্থানে অবস্থান করতে অনুসন্ধানে দেখা যায় ।এ ছাড়া সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিন মুখে মোটরসাইকেল, সিএনজি, ব্যাটারি চালিত রিকসা-অটো এমনকি ছোট পণ্যবাহী পিকআপ সুবর্ণচর, আটকপালিয়া সহ বিভিন্ন জায়গা চলতে দেখা যায় । এছাড়া ও রশিদ কলোনীর পর চৌমুহনীসহ উত্তরমুখী বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীদের স্বাভাবিক চলাচল চোখে পড়ে । কিন্তু মাঝখানে ৫নং ও ৬নং ওয়াডের রশিদ কলোনী, কদমতলী, থানা কাউন্সিল, দত্তবাড়ির মোড়, ছাগলামারা পোল, তাজু কমিশনার এর বাড়ি সংলগ্ন সেন্ট্রাল রোড, দত্তেরহাট বাজার এ পেট্রোল পাম্প ও জেলা পাড়ায় ১৫ থেকে ২০ জনের ছোট ছোট গ্রুপ ককটেল ফাটিয়ে এবং দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে উগ্র পিকেটিং বদ্ধ করে দেয় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাবস্থা । বিগত কয়দিনের হরতালে এইসমস্ত পয়েন্টে মোটরসাইকেল ভাংচুর, এমনকির মাঝে রিকসা-সাইকেল ও ভাংচুর করা হয় । ১ম দিকের অবরোধের সময় এই সমস্ত পয়েন্ট গুলিতে গাছের গুড়ি, বিদ্যুৎ এর খুটি, বাঁশ বেঁধে পুরো রাস্তা বদ্ধ, টায়ার জ্বালিয়ে মাত্র ১কি.মি. এর মত এই জায়গাতে তৈরী করা হয় চরম ভীতিকর পরিবেশ । তখন রিকসা-সাইকেল সহ কোন যানই চলতে দেওয়া হয়নি । এমনকি কিছুক্ষণ ককটেল বিস্ফোরন সহ সশস্ত্র মহড়া দিয়ে পুরো এলাকার মানুষকে প্রায় ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় ।আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ এ স্পট গুলিতে আসতে একপ্রকার প্রকাশ্য অনীহা মানুষকে করেছে দারুন ক্ষুদ্ধ । এই টানটান অরাজক পরিস্থিতি চলেছে ৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত । ৪ঠা ডিসেম্বর র্যাব ১১ এর বিশাল একটা বাহিনী এই এলাকায় প্রধান সড়কে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের সময় দত্তেরহাট বাজারে বেঁধে যায় ব্যাপক সংঘষ । দক্ষিন মুখী প্রধান সড়কে এগোতে র্যাবকে টিয়ার সেল সহ , রাবার বুলেট এবং বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালাতে হয় এই এলাকায় ।জামাতের মূল ক্যাম্প ও বিএনপির সাবেক সাংসদের বাড়ি অত্র এলাকায় ।এই পয়েন্ট গুলিতে বিএনপির ভালো অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জামাত শিবির অত্র অঞ্চলে ২০ থেকে ২৫টি ম্যাসে অবস্থান নিয়ে চালাচ্ছে নাশকতা এ কাজে তারা নোয়াখালী খালের কাঠের পোল পেরিয়ে অন্য পাশে গড়ে তুলেছে নিজেদের নিরাপদ আবাস, কারন এখানে চলাচলের অবকাঠামো একেবারেই সেকেলে ।গোদার মসজিদ, হরিনারায়ণপুর এতিমখানা মসজিদ, দত্তেরহাট বাজার মসজিদ, হাজী তোফায়েল জামে মসজিদ, বিদ্যুৎ অফিস থেকে সোজা পূর্বদিক রেললাইন পেরিয়ে ১৫গজ সামনের মসজিদ, দত্তেরহাট দীঘির পাড় এতিমখানা জামে মসজিদ এদের গোপন বৈঠকস্থল ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল । বিগত ২৮/০২/১৩ইং তারিখে একাত্তরের ঘৃণ্য দেইল্লা রাজাকার ওরফে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পর জামাতি তান্ডব বন্ধে এবং পুলিশ জীবন রক্ষার্থে ম্যাজিষ্ট্রেট হাছান সাদির লিখিত আদেশে কয়েকশ রাউন্ড গুলি চালাতে হয় পুলিশকে । পুলিশের গুলিতে তখন মার যায় দুইজন ।তাই নোয়াখালী পৌরসভায় নাশকতা বদ্ধে এই এলাকায় চালাতে হবে নিয়মিত, নিরবিচ্ছিন্ন সাঁড়াশি অভিযান ।২২/১২/২০১৩ইং তারিখে সেনাবাহিনী শীতকালীন মহড়ার সময় শহরের মূল পয়েন্ট টাউন হলের মোড়ে দুপুর ২.৩০ ঘটিকার সময় দ্বিতীয় দিন দুটি সেনা পিকআপ দাঁড়িয়ে সেনা সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে মিনিট দশেকের মত এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করে দক্ষিন দিকে চলে যান । আর যে ঘটনায় পুরো নোয়াখালী শহর ছিল সন্ধ্যা থেকে আলোচিত তা হলো কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচী পালনে শহর আওয়ামীলীগ বিকাল বেলা শহরে শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ মিছিল করে টাউন হল থেকে দশহাত পূবে আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে (জামাত শিবির যা ২৫/০৯/২০১৩ তারিখে পুড়িয়ে দেয় )প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। তখন সকল আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ, নেতাকর্মীরা চলে যাবে ঠিক ঐ মূহুর্তে দক্ষিন দিক থেকে সেনাবাহিনীর টহল দল তাদের টহল জিপ নিয়ে দাঁড়ায় । রাস্তায় জনসমাগম দেখে তাঁরা স্বভাবসুলভ ও স্বাভাবিক ভংগিতে ২ মিনিটের মধ্যে রাস্তা খালি করতে অনুরোধ করেন । প্রায় মিনিটেই সরে যায় নেতাকর্মীরা । এর কিছুক্ষণ পরই ১৮দল কোন নাশকতা ব্যাতিত অবরোধের মিছিল শেষে স্বাভাবিক ভংগিতে সরে যায় । এ ঘটনায় সাধারন মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর জামাতিরা একটি কঠোর সংকেত পায় যেখানে সরকারি দল দলীয় অফিসের সামনে শান্তিপূর্ন অবস্থান ছেড়ে দিতে হয়েছে , সেখানে নাশকতার চেষ্টা মানে চরম ও কঠোর ব্যাবস্থা । সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি নগরীর সব জায়গায় ঘটনাটি ছিল টক অব দ্যা সিটি । সাধুবাদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । স্বাগতম নোয়াখালী জেলায় শুভ আগমন ফিরিয়ে আনবে শান্তির বাতাস এই আশা আজ সকলের । চলবে……………….

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here