জনতার নিউজ

কালো পোশাক ও পাগড়ি বেঁধে এলাকায় ঘুরে বেড়াতো হামলাকারীদের একজন

ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত ৬ জঙ্গির মধ্যে আরও একজনের বাড়ি বগুড়ায় বলে নিশ্চিত হয়েছে জেলা পুলিশ।

এবং অনেক দিন আগে উজ্জ্বল নামের সেই হামলাকারী এলাকায় কালো পোশাক ও মাথায় পাগড়ি বেঁধে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে এবং ইসলামের কথা বলেছেন। তবে এলাকাবাসীর কখনও ধারণা হয়নি ওটা হতে পারে আইএস এর পোশাক।

নিহত জঙ্গির প্রকৃত নাম নাম শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। সে বগুড়া’র ধুনট উপজেলার কৈয়াগাড়ী গ্রামের মো. বদিউজ্জামান বদির ছেলে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ জন্য নিহতের বাবা ও বড়ভাইকে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

নিহতের বাবা বদিউজ্জামান জানান, উজ্জ্বল এইচএসসি পাসের পর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হয়। পরে সেখানে পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থানার শাজাহান মার্কেট এলাকায় মাদারী মাতব্বর কেজি স্কুলে শিক্ষকতার চাকুরী নেয়। দুই বছর যাবত সে সেখানে শিক্ষকতা করছিল। ৬ মাস আগে সে একবার বাড়িতে আসে। সবাইকে বলে- ‘আমি বেশ কিছুদিনের জন্য তাবলীগের চিল্লাই যাচ্ছি।’ এরপর সে আর ফিরে আসেনি। ঢাকায় কমান্ডোদের গুলিতে নিহতদের প্রকাশিত ছবির মধ্যে তার ছেলেও রয়েছে।

এদিকে এখবর জানাজানি হওয়ার পর বগুড়া জেলা পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত উজ্জ্বলের বাবা ও বড় ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন । পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বগুড়ায় নেয়া হয়।

ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পঞ্চানন্দ দাস জানান, ঢাকায় যে ছয়জন সন্ত্রাসী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মারা গেছে তাদের প্রকাশিত ছবির মধ্যে একজন ধুনটের শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বলের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বাবা ভাইকে গ্রেফতার করা হয়নি ।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, এবিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

কে এই উজ্জ্বল

নিহত জঙ্গি উজ্বলের বাড়ি বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বানিয়াজান গ্রামে। ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষক বদিউজ্জামানের তিন ছেলের মধ্যে উজ্বল সবার ছোট। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে মাস্টার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে দুই বছর আগে সে ঢাকার আশুলিয়া থানার শাহজাহান মার্কেট এলাকার মাদারী মাদবর কেজি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেয়। পাশাপাশি সে লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছিল। সেই সুবাদে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় তার বড় ভাই গার্মেন্টস শ্রমিক আসাদুলের বাড়িতেই থাকতো উজ্বল। কিন্তু তার ভাই আসাদুল গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসলেও উজ্বল আরেকটি বাসা ভাড়া নিয়ে চাকরি করছিলেন।

পরিবারের বক্তব্য

শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জলের বাবা কৃষক বদিউজ্জামান জানান, উজ্জ্বল এইচএসসি পাসের পর বগুড়া সরকারী আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হয়। পরে সেখানে পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থানার শাজাহান মার্কেট এলাকায় মাদারী মাতব্বর কেজি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেয়। দুই বছর যাবত সে সেখানে শিক্ষকতা করছিল। ৬ মাস আগে সে একবার বাড়িতে আসে। সবাইকে বলে, আমি বেশ কিছুদিনের জন্য চিল্লায় যাচ্ছি। তার পর সে আর ফিরে আসেনি। তিনি আরো জানান, ঢাকায় ৬ জন গুলিতে মারা যাওয়ার ছবির মধ্যে একজন তার ছেলে উজ্জ্বল বলে সনাক্ত করেন।

উজ্বলের বড় ভাই আসাদুল ইসলাম বলেন, উজ্বল ধুনটের বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকায় চিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সে কখন সবার অজান্তে এ কাজে জড়িয়ে পড়েছে তা আমাদের পরিবারের অজানা।

এ নিয়ে গুলশানে হোটেলে জঙ্গী হামলার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত বগুড়ার দুই জঙ্গীর পরিচয় পাওয়া গেল। এর আগে শাজাহানপুর উপজেলার চোপনিগর ইউনিয়নের বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের দিনমজুর আবু হোসেনের ছেলে খায়রুল ইসলামের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here