image_90685জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে বলেছেন, দেশের এক শতাংশ মানুষও বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে না, তাদের ভোট দেবে না। সুজাতার এক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি সাংবিধানিক নির্বাচন বুঝি না, আমি বুঝি সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সব দল না আসলে আমরাও নির্বাচনে যাবো না, এটাই আমার সিদ্ধান্ত এবং শেষ কথা।’ আজ বুধবার বিকেলে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব জাপা চেয়ারম্যানের বারিধারার বাসায় দেখা করতে গেলে তিনি তাকে এসব কথা বলেন।

পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী সুজাতা সিং এরশাদের বাসায় পৌঁছান বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে। তার সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণও ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে আধাঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক শেষে পৌনে পাঁচটার দিকে বের হয়ে সুজাতা উপস্থিত গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলেননি।

তবে সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করে করে দেন এরশাদ। সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘উনি (সুজাতা সিং) আমাকে বলেছেন-আপনারা নির্বাচনে থাকুন’। জবাবে আমি বলেছি ‘দেশের এখন যে অবস্থা তাতে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সারাদেশে, গ্রামে-গঞ্জে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায়, আমার দলের নেতা ও প্রার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায়, কেউ নির্বাচনি এলাকায় যেতে পারছি না।’ সুজাতা সিং আমাকে বলেছেন ‘কেন, এই সরকার তো ভালো কাজ করেছে, আপনি থাকুন’। জবাবে তাকে আমি বলেছি-আপনি রাস্তায় গিয়ে একশজন মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন, কেউ এ সরকারের পক্ষে বলবে না, তারা সবাইকে শত্রু বানিয়ে ফেলেছে। তাদের বাক্সে কোনো ভোট পড়বে না। সঠিক নির্বাচন হলে এক শতাংশ ভোটও পাবে না। আমরা সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবো না।’ এরপর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আমাকে বলেন ‘তাহলে তো জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় আসবে, আপনি কি চান তারা আসুক।’ জবাবে আমি তাকে বলেছি, কে ক্ষমতায় আসবে জানি না। সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ যাদের ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় যাবে। এরপর তিনি (সুজাতা সিং) আমাকে বলেছেন ‘আপনি ভালো কাজ করেছেন, ঠিক আছে, জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে, যে সরকার আসবে, আমরা তাদেরই সমর্থন করব।’

এরশাদ আরও বলেন, ‘আমি তাকে (সুজাতা সিংকে) একথাও বলেছি যে, দেশের একজন মানুষও এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেই, তাকে কেউ পছন্দ করছেন না। এসময় এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর নামকে শুধু ‘হাসিনা’ বলে সম্বোধন করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব যখন এরশাদের বাসায় যান, তখন জাপার দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী তার বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুজাতার নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক র্যাব-পুলিশ সেখানে মোতায়েন ছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আধাঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন এরশাদ। দলের মহাসচিব ও বিমানমন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন বাবলু ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এরশাদের বাড়িতে গেলেও এই বৈঠক চলাকালে তাদের বাসায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। তারা সবাই বাড়ির নীচতলায় অতিথি কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন। বৈঠক শেষে এবং সুজাতা সিং চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর এরশাদ বাসা থেকে নিচে নেমে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনিও অতিথি কক্ষে গিয়ে অপেক্ষমান নেতাদের সঙ্গে বসেন। অবশ্য পরে তাদের সবাইকে নিয়ে ওপরে বাসায় গিয়ে বৈঠকে বসেন এরশাদ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here