image_147042নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণের কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকালে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনয়নপত্র নেয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এবং জমা দিতে পারবেন। সারাদেশে রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ে যখন চলছে নানা টানাপড়েন, বিএনপি একের পর এক হরতাল কর্মসূচি পালন করছে। এর মাঝেই আ’লীগ গতকাল সকাল থেকে এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দুপুর থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রির কাজ শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় দুপুর পর্যন্ত সারাদেশের ৭টি বিভাগে ৬৮৭ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আবেদন ফরম নিয়েছেন। যার সর্বমোট মূল্য ১ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১৫টি, রাজশাহী বিভাগে ৭৫টি, রংপুর বিভাগে ৮০টি, খুলনা বিভাগে ৯৫টি, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১০৩টি, বরিশাল থেকে ৫৮টি এবং সিলেট বিভাগ থেকে ৫২টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সৈয়দ আশারাফুল ইসলাম। এরপর অন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কেনা শুরু করেন। মনোনয়নপত্র কেনা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড় ছিল ওই কার্যালয়ের সামনে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রের পথ সুগম করতে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। তাতে সব ভোটার অংশ নেবেন। কেউ যদি ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়, তাহলে সেটা গণতন্ত্রের জন্য শুভকর হবে না। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আশা করি, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এ প্রক্রিয়া শুরু করবে। আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ একটি নতুন সরকার পাবে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যারা করেন, তারা প্রত্যেকেই মনোনয়নপত্র কিনতে পারবেন। তবে আমরা চাই, সৎ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনবেন। আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমার প্রক্রিয়া চলবে বলে তিনি জানান। তবে প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার জন্য দলের মনোনয়নের প্রথম আবেদনপত্রটি সংগ্রহ করা হয়। এটি শেখ হাসিনার নিজ আসন। এছাড়া শেখ হাসিনার নামে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) ও বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনের জন্যও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হতে পারে। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ তিন আসনেই নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। পরে গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি রেখে বাকি দুটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।

শেখ হাসিনার মনোনয়নের আবেদন ফরম কেনার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহ্বুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মৃণাল কান্তি দাস, এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।

এদিকে মনোনয়নপত্রের আবেদন ফরম বিক্রি উপলক্ষে সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করছেন। এতে পুরো এলাকায় নির্বাচনী আমেজে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রির জন্য সাতটি বিভাগের সাতটি আলাদা বুথ খোলা হয়েছে।

আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নের আবেদনপত্র (ফরম) সংগ্রহ করতে এবং জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্রের আবেদন ফরমের মূল্য নেয়া হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। যা আগে ছিল ১৫ হাজার টাকা।

দলীয় গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্ট বিধি-বিধান এবং দেশের রাজনৈতিক দলবিধি অনুযায়ী নির্বাচনে যোগ্য, বিবেচিত ব্যক্তিরা এই মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রচারের কাজ শুরু করতে পারবেন। এর আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ১০ নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এ আবেদনপত্র বিতরণ ও জমা দেয়ার জন্য ২৩ সদস্যের একটি উপ-কমিটি করা হয়েছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। এ সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে বোর্ড। সংসদীয় বোর্ডে আরও রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কাজী জাফরউল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে বেলা দুইটার দিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া নিয়ে ঢাকা-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওলাদ হোসেন ও সফিকুল সাইজুল পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন। পুলিশ এবং দলীয় কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here