জনতার নিউজঃ

সবার আমলনামা আমার হাতে সাবধান হোন

 

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এখন থেকেই নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার জন্য দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে কিংবা নির্বাচনকে সহজভাবে নিলে চলবে না। আগামী নির্বাচন কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই জনপ্রিয়তা ছাড়া কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এলাকায় দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বতন্ত্র ১১ জন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো এই বৈঠকে অংশ নেন। তাঁদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। এখন থেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করুন। দলের নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করলে কিন্তু আপনারা আগামীতেও মনোনয়ন পাবেন না। যাঁর যাঁর এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে তা দ্রুত সমাধান করে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলুন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামুন। ’

সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। তাই এখন থেকেই নির্বাচনী এলাকায় থেকে জনগণের মন জয় করুন, সরকারের গত আট বছরের সাফল্যগুলো তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, দিন শেষে কিন্তু জনগণের কাছেই যেতে হবে। ’

দলের মধ্যে কোনো ধরনের কোন্দল-দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভেদ-অনৈক্য বরদাশত করা হবে না। সারা দেশের ৩০০ আসনের জরিপ রিপোর্ট ও প্রকৃত চিত্র আমার কাছে আছে। আরো জরিপ চালাব। নির্বাচনী এলাকায় কার কী অবস্থা, জনসমর্থন কার কেমন, আর কারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন—সব রিপোর্ট আমার কাছে রয়েছে। তাই সবাই সাবধান হয়ে যান। নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করুন। যারা দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের কাউকেই ক্ষমা করা হবে না। ’

রাত ৮টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকের পুরোটাই ছিল নির্বাচনী তত্পরতা বাড়ানোর প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী বারবার সংসদ সদস্যদের সরকারের উন্নয়ন-সাফল্যগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথাও বলেন। তিনি বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের কাছে জানতে চান—সরকার কতজন শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে বই দিয়েছে? কতজনকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হচ্ছে? কতজনকে অসহায়-বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় বেশির ভাগ সংসদ সদস্যই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যের আরো বেশি পড়াশোনা করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আর্থসামাজিক উন্নয়ন করেছি। এমপিরাই যদি এসব বিষয়ে অজ্ঞ হন তবে আমরা জনগণকে কিভাবে অবহিত করব। তাই আমরা কী কী কাজ করেছি তা জনগণের সামনে তুলে ধরুন। নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নগুলো ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে জানান, সামাজিক গণমাধ্যমেও সব কিছু তুলে ধরুন। ’ সংসদ সদস্যদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘আমি কারোর দায়িত্ব নিতে পারব না। নিজের আসনে নিজে প্রস্তুত হোন। জনবিচ্ছিন্ন কাউকে কিন্তু মনোনয়ন দেব না, তিনি যত বড়ই নেতা হোন না কেন। জনগণের কাছে যেতে হবে, কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। ’

সরকারের উন্নয়ন-সফলতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতা, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, দুর্নীতি, অর্থপাচারের চিত্রগুলোও তুলে ধরার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী এই অপশক্তিরা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাই সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থেকে জনগণের কাছে তাদের নেতিবাচক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরতে হবে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। জনগণকে এ ব্যাপারেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আর অতীতে আপনারা কে কী ভুল করেছেন, তা চিহ্নিত করে উদ্যোগী হয়ে সেসব ভুল সংশোধনের চেষ্টা করুন। ’

বৈঠকে ড. হাছান মাহমুদ, আতিউর রহমান আতিক, তারানা হালিম, মোতাহার হোসেন, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাধন চন্দ্র মজুমদার, ডা. হাবিবে মিল্লাহ মুন্না প্রমুখ নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। সংসদ সদস্যদের জন্য থোক বরাদ্দ বৃদ্ধি, তাঁদের এলাকার সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অনেক মন্ত্রীই কথা দিয়ে কথা রাখেন না। সংসদ সদস্যরা নিজের এলাকার সমস্যা নিয়ে গেলে অনেক মন্ত্রীই বিমাতাসুলভ আচরণ করেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here