pm

newsপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিরাপদ করতে সুরক্ষিত নৌপথ গড়ে তুলতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নৌপথ নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে নদ-নদীর নাব্যতা বাড়াতে হবে। কারণ ভৌগোলিক দিক থেকে নৌপথ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মতবিনিময় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে মতবিনিময় করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তৃতা করেন। এসময় নৌপরিবহন সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 দেশের অন্যান্য নদ-নদীকে যেন বুড়িগঙ্গার মতো ভাগ্য বরণ করতে না হয় সে লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের প্রতি দেশের নদী দূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কর্ণফুলি, সুরমা বা কুশিয়ারাকে আবর্জনা ও তেল নিঃসরণ থেকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বুড়িগঙ্গা রক্ষায় ওয়াক ওয়ে ও পিলার নির্মাণসহ ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নদীর তীর দখলের অবৈধ পেশা বন্ধ করতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্প্রতি তার বুড়িগঙ্গা ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীটির দূষণ দেখে আমি সত্যিই কষ্ট পেয়েছি। নদীটি সম্পূর্ণ মরে গেছে এবং এ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে দেখে আমার কান্না আসছিল। এটা আমাদের জন্য নিদারুণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ ঢাকা এই বুড়িগঙ্গার তীরেই অবস্থিত।’

চট্টগ্রামে কর্ণফুলি, খুলনায় ভৈরব, সিলেটে সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু এবং বরিশালের নদীগুলোও ভবিষ্যতে বুড়িগঙ্গার মতো ভাগ্য বরণ করতে পারে। কিন্তু আমরা আমাদের নদ-নদীকে মরে যেতে দিতে পারি না। আমরা ইতোমধ্যে ঢাকার আশপাশের সব নদী ড্রেজিংয়ের পদক্ষেপ নিয়েছি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শহরের ময়লা-আবর্জনার উত্স চিহ্নিত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে তা পরিশোধন ও নিষ্কাশন করতে হবে। দূষণের পথ বন্ধ না হলে বুড়িগঙ্গা পরিচ্ছন্ন হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় নদী কমিশন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫৩টি নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে ৩৬টি নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। অন্যগুলোও পর্যায়ক্রমে ড্রেজিং করা হবে। তিনি বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের ফলে ১ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ও ২ হাজার একর জমি উদ্ধার হয়েছে। এসব জমি স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ঢাকার চারদিকের ৪টি নদী ড্রেজিং করছে। কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাতে মাঝে-মধ্যেই একাজ বন্ধ করে দেয়। আমি খোঁজ নিলে আবার তা শুরু করে।’ শেখ হাসিনা বলেন, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও নদীর উপর স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। এসব স্থাপনা ভাঙ্গতে বলা হলে তারা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী সরিয়ে নেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে ৩ বছরসহ দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো। এক সপ্তাহ আগে এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগের সকল ট্যানারী মালিককে তাদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর হাজারীবাগের সব ট্যানারী বন্ধ করে দেয়া হবে।

 অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ৮টি সংস্থার সঙ্গে অটোমেশন ও ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার উদ্বোধন করেন। তিনি এখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নৌ পরিবহন ও জাহাজ চলাচল সেক্টরের দুর্বল দিকগুলো সংশোধন করতে হবে এবং আইন কড়াকড়িভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নৌপথে দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here