জনতার নিউজঃ

এক নারীর ফোনে বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার!

কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার অপহরণ রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। এ কয়দিন রহস্য ছিল কার ফোন পেয়ে বাসা থেকে ওই দিন বের হয়েছিলেন তিনি? আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে একজন নারীর ফোন পেয়েই তিনি বের হন। ওই নারী ফরহাদ মজহারের পূর্বপরিচিত, এই নারীর সাথে ফরহাদ মজহারের দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে অপহরণ করে ওই নারীর ঘনিষ্ট একজন কারন ফরহাদ  মজহার বহুগামী একজন প্রেমিক কিন্ত এই নারী তা নাকি সহ্য করতে না পেরে তার ঘনিষ্ট লোক দিয়ে তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। ওই নারী এবং তার ঘনিষ্টজনকে ইতিমধ্যে সনাক্ত করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের গ্রেফতারের জন্য ঢাকার বাইরে ইতিমধ্যে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে।

ফরহাদ মজহার একজন বহুগামী ভন্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, তিনি তথাকথিত ইসলামী ভাবধারার রাষ্ট্র গঠন করার নামে তিনি এমন কিছু লেখা লিখেছেন যে লেখাগুলোতে আছে জঙ্গিবাদ সৃষ্টির আহ্বান আছে উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু।

প্রথম দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশে যতো উগ্রবাদী ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটার পক্ষে তিনি নানা রকম যুক্তি স্থাপন করে পাবলিক সেন্টিমেন্ট আদায়ের চেষ্টা করেছেন এবং বেশ কয়েকটি ঘটনার রূপরেখা তিনি নিজেই তৈরী করেছেন।

তিনি ধার্মিক বেশে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য যে ফরহাদ মজহার এতো সোচ্চার, সেই ফরহাদ মজহার বাস্তবিক অর্থে কতোটা ধর্মসচেতন? এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বাসায় নিয়মিত মদ্যপান, মদ্যপ অবস্থায় গানবাজনা, বন্ধুত্বের নাম ধরে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার দিনগুলোর কথা উদাহরণ হিসেবে আসতে পারে। তবে এরচেয়েও বড় উদাহরণ হতে পারে তাঁর কবিতার বই “এবাদতনামা”।

এই বইয়ের একটি কবিতায় তিনি লিখেছেনঃ
“বিবি খদিজার নামে আমি এই পদ্যটি লিখি:
বিসমিল্লাহ কহিব না,শুধু খদিজার নাম নেবো।
প্রভু, অনুমতি দাও। গোস্বা করিও না একবার শুধু তাঁর নামে এ পদ্যখানি লিখিব মাবুদ। নবীজীর নাম? উঁহু, তার নামও নেবোনা মালিক শুধু খদিজার নাম- অপরূপ খদিজার নামে একবার দুনিয়ায় আমি সব নাম ভুলে যাব তোমাকেও ভুলে যাব ভুলে যাব নবীকে।” এই লোক নিজেকে নাস্তিক ঘোষনা করে আবার ইসলামিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য জনগনের সাথে প্রতারনা করে নিজেকে একজন ভন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দ্রুত পুরো রহস্য উত্দ্ঘাটন করতে সক্ষম হব। এজন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কার ফোনে তিনি বের হয়েছিলেন, কে তাকে অপহরণ করে খুলনা নিয়ে যায়, কিভাবে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে? সবকিছু তদন্তে বের হয়ে আসবেই। আশা করছি দু’এক দিনের মধ্যেই আমরা পুরো বিষয়টি দেশবাসীকে জানাতে পারব।’

তদন্তকারী একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘গত সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তিনি বাসা থেকে বের হন। বের হওয়ার সময় তার কাঁধে একটা ব্যাগ ছিল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তে পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিভাবে তাকে মাইক্রোবাসে তোলা হয় তাও নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে খুলনায় নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার পর কেন তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন না, সেটা এখনও পরিস্কার হতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এরপরই পুরো রহস্যের জট খুলে যাবে এবং দেশবাসীকেও জানানো হবে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার বলেন, গত সোমবার ভোরে তিনি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। এর পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি গাড়িতে করে তাকে অপহরণ করেন। অপহরণকারীরা তাকে দিয়ে বাসায় ফোন করিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। তবে বিকালে অপহরণকারী তাকে একটা স্থানে নামিয়ে দেন। পরে তিনি এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে জানতে পারেন ওই এলাকাটি খুলনা। এরপর খুলনার একটি হোটেলে তিনি ৫ শ’ টাকা ভাঙ্গিয়ে রাতে খাবার খান। পরে তিনি বাসের টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাসে ওঠার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর যশোর থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাসা থেকে বের হবার সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার, একটি পোশাক ছিল। বাসা থেকে বের হবার সময় তার কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা ছিল। এ থেকে অনুমান করা যায় তার বাসা থেকে বের হওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটাই এখন পরিস্কার হতে চলেছে।মূলত তিনি প্রেমের টানে বাসা থেকে বেড় হয়েছেন। তার একাধিক প্রেমিক থাকার কারনে তাকে নিয়ে শুরু হয় টানা টানি আর এই সুযোগে তার কথিত স্ত্রী মামলা করেন নিখোঁজ হয়েছেন বলে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে নেয়া হয় আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে নেয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার জবানবন্দি নেয়ার জন্য সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে নিজের জিম্মায় দেয়া হয়। সোমবার রাতে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here