জনতার নিউজঃ

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। লালমনিরহাটের একটি আদালতের এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর গত বুধবার জানা যায়। এর আগে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পারোয়ানা জারি হয়েছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ঠুকনো ও হাস্যকর বিষয় নিয়ে করা মামলায় এমন গ্রেপ্তারি পারোয়ানায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের বছরের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে পত্রিকার সম্পাদকদের এমন হয়রানি কেন?

নঈম নিজামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া মামলায় বাদী সাত কার্যদিবস আদালতে অনুপস্থিত ছিল। আইন অনুযায়ী টানা তিন কার্যদিবস বাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকলেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। অবস্থাদৃষ্টে বোঝাই যাচ্ছে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি পুনজ্জীবিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন মানহানির মামলাটি করেন। এর আগে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে মানহানির মামলায় ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

মানহানির মামলা নামে সম্পাদকদের বিরুদ্ধে করা ঠুকনো সব মামলায় গ্রেপ্তারি পারোয়ানা জারি নিয়ে প্রশ্ন আইন বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কখনো সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ান, প্রথমে সমন হবে, সেখানে কেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও অমান্য করে হয়ারানির উদ্দেশ্যেই এসব গ্রেপ্তার পরোয়ানা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা নিয়ে হয়রানির শিকার হতেন সাংবাদিকরা। ওই ধারা ব্যবহারের প্রকোপ কমলেও এখনো হয়রানির বিষয়টি কমেনি। এই ৫৭ ধারা করা হয়েছিল জঙ্গি ধমনের জন্য অথচ, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এই ৫৭ ধারা হয়রানি মূলক ভাবে ব্যবহার হয়েছে সাংবাদিক, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী ঘরাণার লোকের বিরুদ্ধে ! এটা কিসের লক্ষন ?

অনেকের প্রশ্ন, নির্বাচনের বছরে কেন সম্পাদকদের হয়রানি? তাঁদের মতে, এখানে বড় কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমগুলোকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে কাজ করছে একটি মহল। সরকার দলীয় অথবা সরকারের জোটভুক্ত এসব নাম সর্বোস্ব দল ও নেতাদের এমন কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশেই বলে মত তাঁদের। আর সরকারকে বিব্রত করে তারা কাদের উদ্দেশ্য হাসিল করছেন? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের।

শেয়ার করুন
  • 10
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here