জনতার নিউজঃ

কুমিল্লায় টাকা আত্মসাতের মামলায় তিন কর্মকর্তা কারাগারে

কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং এর দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়েছে। ওই দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে বখাটেরা। আরো টাকা না দেওয়ায় ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে মেয়েটি রাজবাড়ী থানায় মামলা করেছে।

গত শুক্রবার রাতে মামলার পর পুলিশ শনিবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রধান আসামিকে ধরতে পারেনি।

মামলার আসামিরা হলো পাংশা উপজেলার আশুরহাট গ্রামের নাছির উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে সিহাব উদ্দিন বিশ্বাস, তার সহযোগী হারুনের ছেলে মিরাজ, নুরু মেম্বারের ছেলে রফিক, কালুখালী উপজেলার চরপতুরিয়া গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে রাসেল, ইসলাম মণ্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান ও সৈয়দ আলী বিশ্বাসের ছেলে শরিফুল ইসলাম বিশ্বাস।

ওই ছাত্রী এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়েটির সঙ্গে সিহাব উদ্দিন বিশ্বাস প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। এর অংশ হিসেবে গল্প করার কথা বলে ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে দুজন পাংশা উপজেলার আশুরহাট বাজারে যায়। কিছু সময় গল্প করার পর সিহাব পানি পান করার কথা বলে মেয়েটিকে বাজারের পাশে থাকা একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সে বাড়ির একটি টিনের ঘরের মধ্যে নিয়ে সিহাব ওই ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে। সে সময় সিহাবের সহযোগীরা ওই ঘরের টিনের বেড়ার ছিদ্র দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। একই সঙ্গে এ ঘটনা কাউকে বললে ওই ভিডিও প্রকাশ করা হবে বলে ছাত্রীকে হুমকি দেয়।

এ ঘটনার পর মেয়েটি বিমর্ষ হয়ে পড়ে। তার পরও লোকলজ্জার ভয়ে সে ঘটনা আর কাউকে না জানিয়ে নিজের মধ্যে রাখে। তবে কিছুদিন পরেই ঘটে বিপত্তি। একটি লটারিতে মেয়েটি দুই লাখ টাকা পায়। এ কথা জেনে যুবক ও তার সহযোগীরা লটারিতে পাওয়া পুরো টাকা দাবি করে। মেয়েটি বাধ্য হয়ে তাদের এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দেয়। ওই টাকা হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তরা মেয়েটিকে কৌশলে অন্যত্র নিয়ে যায়। ফের যৌন নির্যাতন করে। পরে আরো টাকা দাবি করে। এবার টাকা না দেওয়ায় ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। গত শুক্রবার মেয়েটি কালুখালী থানায় গিয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, লোমহর্ষক। এ কারণে মেয়েটি থানায় মামলা করার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর হয়েছে। ওই ভিডিও উদ্ধার এবং রাজবাড়ী হাসপাতালে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। ইতিমধ্যে আসামি মিরাজ, শরিফুল ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিহাবসহ বাকিরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ’

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here