musanews

ধনকুবের মুসা বিন শমসের জানান, দেশ থেকে ৭০০ কোটি ডলার  সুইস ব্যাংকে জমা রাখেন নি। বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

মুসা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে, তার পুরোটাই বিদেশে উপার্জন করেছি।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিষয়ে যা বলা হয়, আমি সাত বিলিয়ন ডলার বা ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি। কেউ কোনো দিন এত টাকা এদেশে আয় করতে পারেনি, পারবেও না। আমি এই টাকা বিদেশে উপার্জন করেছি।

সাত গাড়ি দেহরক্ষী নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আসেন মুসা।

বাংলাদেশে জনশক্তি রফতানি প্রতিষ্ঠান ডাটকোর চেয়ারম্যান মুসাকে ১৮ ডিসেম্বর দুদকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দুদক কর্মকর্তা জানান, গত জুনে বিজনেস এশিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে মুসার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই দুদক তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একটি সুইস ব্যাংকে মুসা ৭০০ কোটি ডলার জমা রেখেছেন।

মুসা বলেন, সুইস ব্যাংকে আটকে থাকা ওই টাকা উদ্ধার করা গেলে পদ্মা সেতু, দুঃস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষকসহ সামাজিক গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখব। সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করব।

বিজনেস এশিয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে মুসার রাজকীয় জীবন যাপনে অভ্যস্ত এবং যেকোনও উপলক্ষে তিনি প্রায় ৭০ লাখ ডলার মূল্যের সাজপোশাক ব্যবহার করেন।

দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, প্রতিবেদনটিতে তার রাজকীয় জীবন যাপনের কথা এবং দামি দামি পণ্য ব্যবহারের কথা ফাঁস হয়েছে, যা কমিশনের চোখে বেখাপ্পা ঠেকেছে। আর তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিই আমরা।

১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে জন্ম মুসার। আদম ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক অনেক গণমাধ্যমই তাকে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছে । ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি ও টনি ব্লেয়ারকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড দিতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন মুসা।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here