Report

দেশের ক্ষতি করার ক্ষমতা আর কারো নেই :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি জোটের আন্দোলনের হুমকির জবাবে বলেছেন, দেশের ক্ষতি করার মতো ক্ষমতা এখন আর কারো নেই, আর ভবিষ্যতেও হবে না। জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকলে কেউই দেশের ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ জনগণই হচ্ছে প্রধান শক্তি। শনিবার ঈদের দিন সকালে গণভবনে দলের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বিচারক ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের কাজে গতি আনতেই মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়েছে। তাছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং যে কোন সময় তা করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াত তাদের ৯২ দিনের হরতাল-অবরোধে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। এটা সত্য যে, তারা দেশের ক্ষতি করেছে। তারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো এমন ঘৃণ্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ড আর কিছু হতে পারে না। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যায়। তাদের ৩ মাসের অধিক সময়ের নির্মম সহিংসতায় অনেকে তাদের আপনজন ও প্রিয়জনদের হারিয়েছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। তবে দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেয়ার মতো কোন রকম ক্ষতি তারা করতে পারেনি।

এবার ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়ি অভিমুখী মানুষের স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত তাদের আন্দোলনের সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা না করলে মানুষ আরো স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারতো। বিএনপি-জামায়াত তাদের ৯২ দিনের আন্দোলনে ২ হাজার যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা রেলের নতুন বগি ও ইঞ্জিন পুড়িয়েছে। এমনকি লঞ্চও তাদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। এরপরও মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে এ লক্ষ্যে ব্যাপক ব্যবস্থা  নেয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে ঘরমুুখী মানুষ তাদের গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারে। লোকজন সুন্দরভাবে বাড়ি যেতে পেরেছেন এবং এবার ‘মলম পার্টির’ কোন উত্পাত ছিল না। কারণ আমরা তা দমন করেছি। তিনি বলেন, বর্ষাকালে সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশে যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্ব্বী হয়েছে। আমরা চাই তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য আরো বৃদ্ধি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ এবার উত্সব মুখর পরিবেশে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করেছে। তারা রাত ১/২টা পর্যন্ত কেনাকাটা করে সেহরি খেয়েছেন এবং আল্লাহর রহমতে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। কেবল ঢাকায় নয়, সারা দেশেই সবাই কেনাকাটা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। আমি তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মহান নেতা একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তারা জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করে। এতে প্রমাণিত হয় যে, সদিচ্ছা থাকলে সুফল লাভ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন চমত্কার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কারণে সারা বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও দেশ সামর্থ্য দেখিয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত।

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়াও চান প্রধানমন্ত্রী।

গত ৯ জুলাই এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দফতর বিহীন মন্ত্রী করা হয়েছিল এবং এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সৈয়দ আশরাফের দফতর পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা আরো বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দফতর বন্টন সরকার প্রধানের এখতিয়ার। আমরা সময়ে সময়ে এই ধরনের পরিবর্তন আনতে পারি। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল এর কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা সঞ্চার করেছে এবং জনগণ বিষয়টিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এটি একটি সাধারণ বিষয়। সব দেশেই সবসময় এমনটি ঘটে। এ বিষয়ে কোন বিরূপ মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী আরো স্মরণ করেন যে, বঙ্গবন্ধু ১৯৫৭ সালে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেছিলেন এবং দল গঠনের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এটি ছিল দেশে একটি অনন্য ঘটনা। তিনি হচ্ছেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি দল পুনর্গঠনে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, দলে সবসময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তাই, আমি মনে করি এ বিষয়ে অনেক কিছু লেখার কোন সুযোগ নেই।

ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবনের গেট সকলের জন্য খুলে দেয়া হয়। ঈদের নামাজ আদায় করার পরপরই সর্বস্তরের মানুষ আসতে শুরু করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন। এ উপলক্ষে গণভবনের বিরাট প্রাঙ্গণ চমত্কারভাবে সাজানো হয়। প্রথমে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভিক্ষুক, দুস্থসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অন্যান্য বছরের মতোই, অনেক দর্শনার্থী এই সুযোগে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে দেশের প্রধান নির্বাহীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং এসব সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পৃথক অনুষ্ঠানে গণভবন প্রাঙ্গণে সুপ্রীম কোর্টের বিচারকবৃন্দ, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন মুসলিম দেশ, আমেরিকা, ইউরোপ ও সার্ক দেশসমূহের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here