প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নদী ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, দেশ রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য নদী বাঁচাতে হবে। আর নদীগুলোকে বাঁচাতে সুষ্ঠু নদী ব্যবস্থাপনা আবশ্যক। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে ‘কম্প্রিহেনসিভ প্লান ফর স্টাবিলাইজেশন অব দ্য যমুনা-পদ্মা রিভার এন্ড পাইলট ইন্টারভেনশন ফর ল্যান্ড রিকেলামেশন’র উপর এক মডেল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বক্তব্য রাখেন। এতে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি, নদী থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এজন্য তিনি নদীগুলো থেকে অধিক উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে নজর দিতে বলেন। নদীকে দেশের জীবন প্রবাহ হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সভ্যতা। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে সভ্যতার সব কিছুই গড়ে উঠেছে নদীর তীর ভূমিতে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক নদী-নৌপথ হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের সবচেয়ে ভালো রুট। নদীগুলো থেকে লাভবান হওয়ার আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে। নদীর জমি পুনরুদ্ধার হলে দেশ আরো উন্নত হবে। আমরা পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে কল-কারখানা গড়ে তুলে বসতি সম্প্রসারণ করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি পুনরুদ্ধারের সুবাদে বিনিয়োগ ও কৃষি জমি বাড়বে এবং দারিদ্র্য নির্মূল হবে। এজন্য এই নদী সম্পদকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, নদী দেশের জীবন প্রবাহ হলেও নদী খনন ও ব্যবস্থাপনার অভাবে তা অনেক সময় দুর্দশা বয়ে আনে। এজন্য প্রথমে আমাদেরকে মূল ড্রেজিং এবং পরে প্রতি বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ড্রেজিং করতে হবে। তিনি বলেন, খরসে াতা ও বড় নদীগুলোর গভীরতা ধরে রাখতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা ব্যাপক ভূমি পুনরুদ্ধার করতে পারলে একটি বাফার জোন গড়ে উঠবে।

নদী রক্ষায় আমরা ভালো সুযোগ পেয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বছরের পর বছর নদীগুলো ড্রেজিং করা হয়নি, আর এর কারণে শুষ্ক মৌসুমে এগুলোর গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষার মৌসুমে নদীগুলো প্রশস্ত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীর গর্তগুলো সঠিকভাবে সমন্বয় করতে হবে। তিনি বলেন, নদীর দুই পাশে বাফার জোন রাখতে হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমে এগুলোতে আরো বেশি পানি ধারণ করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, নদী ভাঙন থেকে নদীগুলোকে রক্ষায় ব্লক ফেলার ক্ষেত্রে দেখা যায়। কিন্তু পলি কাটার ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

‘হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন’

প্রধানমন্ত্রী দেশের হাসপাতালগুলোতে জনগণের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। গতকাল বিকালে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়ন সংক্রান্ত মডেল উপস্থাপনকালে তিনি এ সকল নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে সঠিক স্বাস্থ্যসেবাটা নিশ্চিত করা যাতে সাধারণ মানুষ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এবং অন্যান্য হাসপাতাল থেকে কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সা সেবাটা পেতে পারে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ রোহিঙ্গা সংকটের অবসানের জন্য বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসন বিষয়ে আবারো চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে চাই।’ গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেস্টেইন সৌজন্য সাক্ষাতে এলে শেখ হাসিনা একথা বলেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদান একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ এবং বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পরে রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা চায় তার দেশ। এই প্রসঙ্গে রেনে হোলেস্টেইন উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্যই সুইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করবেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here