ফারাজী আজমল হোসেন

দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে গভীর উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। সবার মাঝে ঘুরে ফিরে একটিই কথা উচ্চারিত হচ্ছে- কী ঘটতে যাচ্ছে রাজনীতিতে? চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট কী আরো ঘণীভূত হবে, না কি সমঝোতা হবে!

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অনড় অবস্থানে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো সত্ত্বেও নির্বাচনে আসছে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। নির্বাচনে বিএনপি না আসায় উদ্বিগ্ন সবাই। উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা আর আন্দোলনের মাঝেই নির্বাচনের ছক অনুযায়ী এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এরই মাঝে ঢাকায় ১৮ জন দগ্ধ হয়েছে আন্দোলনের আগুনে। এর শেষ কোথায় তা কেউ জানে না।

অন্যদিকে সরকারের অনড় অবস্থানের তীব্র বিরোধীতা করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ৭১ ঘণ্টার রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। তারা বলছে, এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। একইসাথে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট এখন মুখোমুখি অবস্থানে। নির্বাচন প্রতিহত করতে বিরোধী জোট হরতাল অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এসব কর্মসূচিতে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। দেশে চলমান আন্দোলন আর সহিংসতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন ভয়াবহ রকমে ব্যাহত হচ্ছে। দোকান-মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে চলমান সংকটের সমাধান না হলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। এ পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্বাচন ঘিরে সামনে আর কি ঘটতে পারে- তা নিয়েও চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে সবখানে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা নগরী ছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকায় বিরোধী দলের আন্দোলন চলছে। বিরোধী দল আগামীতে এ আন্দোলন আরো তীব্রতর করার পরিকল্পনা করেছে। সরকারের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অনেক স্থানে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি মুখে যাই বলুক না কেন, তারা আসলে নির্বাচনমুখী। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের শতভাগ ধারণা, আগামীতে কোনোভাবে নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। ক্ষমতায় গিয়ে কে কোন পদে বসবে- তারও ছক কষছেন তারা। তাই শেষ মুহূর্তে কোনো আন্দোলনে না গিয়ে নেতাকর্মীদের চাপে হলেও তারা নির্বাচনে যেতে বাধ্য হবে। সে জন্য নির্বাচন ইস্যুতে বিরোধী দলের সাথে কোনো রকম সমঝোতার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপি যদি কোনো কারণে নির্বাচনে না আসে তবে বিরোধী জোটের শরিকদের বিভিন্নভাবে নির্বাচনে নিয়ে আসার কথাও সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে নীতি নির্ধারকদের। এছাড়া সংস্কারপন্থি বলে পরিচিত বিএনপির কিছু নেতা নির্বাচনে আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ প্রক্রিয়া সফল হলে মূল বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য করা যাবে বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, সরকার নির্বাচন করতে গেলে হরতাল, অবরোধ ও অবস্থানের মাধ্যমে দেশ অচল করে দেয়া হবে। গত কয়েকদিনে তার মহড়া দেয়া হয়েছে মাত্র। সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি অপেক্ষা করছে। আর এরমধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায় করা হবে।

এদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট নিয়ে চিঠি দিয়েছেন। আগামী ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সংকট সমাধানে ভূমিকা নিতে ঢাকায় আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে আগামী এক সপ্তাহ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here