Tiger

সমুদ্রের গর্জনের মতো শব্দ শোনা যাচ্ছে, হালকা কুয়াশা ভেদ করেও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কানায় কানায় ভর্তি গ্যালারি। তিরিশ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে তখন সল্ট লেক, মেলবোর্ন বা ন্যু ক্যাম্পের মতো লাখো দর্শকের স্টেডিয়াম বলে মনে হচ্ছিল! এরই মধ্যে টেলিভিশন পর্দায় ছোট্ট একটা প্লাকার্ড ধরা পড়ল- কাম অন নড়াইল এক্সপ্রেস।

কথা রাখলেন বাংলাদেশের এ যাবত্ কালের সেরা পেসার, নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের সেরা পারফরম্যান্স করতে পারলেন না। কিন্তু যা করলেন, তাতেই কুপোকাত্ নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে মাশরাফিদের হাতে পড়ে গতকাল মিরপুরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল ব্ল্যাক ক্যাপরা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০ রানের এই জয়ে সিরিজ জয় তো নিশ্চিত হলই; এখন খুলে গেল আরও একটি বাংলাওয়াশের দুয়ার।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৪৭ রানের মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে একদমই স্থির হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের শিবিরে কাঁপন ধরিয়েই শুরু করেছিলেন দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেন। বিশেষ করে মাশরাফি যেন ফিরিয়ে আনলেন তার সোনালী দিনের স্মৃতি। আগের ম্যাচে প্রত্যাবর্তনেই ভালো বল করা মাশরাফি গতকাল প্রতিটা বলে হারিয়ে দিচ্ছিলেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। পুরস্কার হিসেবে ৪৩ রানে ৩টি উইকেটও পেয়েছেন। এর মধ্যে ইনিংসের ৪৭তম ওভারের চতুর্থ বলে টিম সাউদিকে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট করে একেবারে হাতেনাতে জয় এনে দিলেন মাশরাফি।

মাশরাফি ও সোহাগের দ্বিমুখী আক্রমণে ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। রস টেলর ও কোরি অ্যান্ডারসন ৬১ রানের জুটি করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে সে প্রতিরোধ ভাঙ্গেন মাশরাফিই। আর টেলর প্রায় শেষ পর্যন্ত দাঁতে দাঁত কামড়ে চেষ্টা করে গেলেও ইনিংসের ৪০তম ওভারে সোহাগ গাজীর বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আর টেলরের আউটের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যত শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের স্বপ্ন।

শেষ পর্যন্ত ৪৬.৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংসটা ব্যাখ্যা করা খুব মুশকিল। টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটসম্যানসহ মোট আট জন ব্যাটসম্যান দুই অংকের দেখা পেয়েছেন। কিন্তু এতো জন ব্যাটসম্যান সেট হওয়ার পরও বাংলাদেশ না পেয়েছে বড় একটা জুটি, না একক বড় কোনো ইনিংসের দেখা মিলেছে।

এনামুল হক বিজয়ের টানা ব্যর্থতায় এবং শেষ ম্যাচে তার একইসঙ্গে হঠকারিতায়ই হয়তো উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালের নতুন সঙ্গী হয়ে ইনিংস শুরু করতে এলেন সামসুর রহমান শুভ। তিনি উইকেটের চরিত্রের কারণে বা নিজেকে প্রমাণ করার স্বার্থে, যে কারণেই হোক মারাত্মক ধীরগতির সেকেলে ব্যাটিং শুরু করলেন। একটা পর্যায়ে ৪৫ বলে শুভর রান ছিল ১০! পরে অবশ্য পরপর দুটি ছক্কা মেরে স্টাইক রেটটাকে একটু সম্মানজনক করে ৫৪ বলে ২৫ রান করে আউট হন শুভ; ভাঙ্গে ৬৩ রানের উদ্বোধনী জুটি।

তিন নম্বরে আসা মমিনুল বেশ হাত খুলে খেলে ৩২ বলে ৩১ রান করে ফেরেন; জুটি হয় ৪১ রানের। মমিনুল আউট হওয়ার খানিক পর বাংলাদেশের একমাত্র ফিফটি করা তামিমও ফিরে আসেন ৮৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ৫৮ রানের ইনিংস খেলে। এইরকম মাঝারি ইনিংস এরপর চলেছেই। একটা সময় বাংলাদেশের সম্মান বাঁচানো স্কোর করাও কঠিন বলে মনে হচ্ছিল। সেটা নিশ্চিত করে দেন ২৪ বলে ২৬ রান করা সোহাগ ও ৮ বলে ১৪ রান করা মাশরাফি।

প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামসহ অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here