এক সপ্তাহে ফাহিম নামের দুই তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। দুজনই তরুণ, দুজনই অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার বাবার ওপর অভিমান করে সুইসাইড নোট লিখে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ফাহিম আহাম্মেদ (২১) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

এই ঘটনার ৩দিন পর গতকাল সোমবার ফাহিম শাহরিয়ার নামের আরেক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। এই ফাহিমও সুইসাইড নোট লিখেছে তবে কাজে কলমে নয় ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে ফ্যানের সাথে ইন্টারনেটের তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ফাহিম শাহরিয়ার রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি হাউজিং কম্পানিতে চাকরি করতেন। ফাহিম থাকতেন মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেডের ৫ নম্বর রোডে।

দু’টো ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্যতা শুধু নামেও নয়, অভিমান আর হতাশার বিষয়টিও আছে। বয়সেও দুজনই তরুণ। এই দুজনের চলে যাওয়াও কাছাকাছি সময়ে। বিষয়টি নিয়ে সোশায়ল মিডিয়াতেও চর্চা হচ্ছে।

ফাহিম শাহরিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক হ্যান্ডেলে আত্মহত্যার পূর্বমুহূর্তে লেখে, ‘আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে আমার দুনিয়াটা অনেক ছোট হয়ে গিয়েছিল। আমার ভবিষ্যৎ চাওয়া পাওয়া বলতে যা ছিলো আজ তাও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো। স্বপ্ন দেখার মতো কিছু নেই।

আমার জন্য এতোদিন যিনি মিডিয়াতে নিজের প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি আজ থেকে তার পথের কাঁটা সরে গেলো দোয়া রইলো তার জন্য উনি যেন সুপারষ্টার হন তার সুনাম ছড়িয়ে প্রুক চারিদিকে এই কামনাই করি। যদি কখনো কাউকে কোন প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকি তার জন্য সরি ক্ষমা করে দিবেন সবাই।

শেষ কথা হচ্ছে আমার জন্য কেউ যেন কাউকে দোষারোপ না করে আমি যা করেছি আমি আমার নিজের চিন্তা ভাবনায় করেছি। আল্লাহ হাফেজ, ভালো থেকো দুনিয়ার মানুষেরা।’

অন্যদিকে বেলকুচির ফাহিম আহমেদ সুইসাইড নোটে লেখেন, বাবা আমি তোমার খারাপ ছেলে না। রাগ একটু কমাও, সবার কথা ভাবো, আর মনের কথা বোঝার চেষ্টা করো। আমি আর তোমার কোনো ক্ষতি করবো না প্রমিজ। তোমার অনেক টাকা নষ্ট করেছি মাফ করে দিও।’

শেয়ার করুন
  • 20
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here