জনতার নিউজঃ

আগামীকাল শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। তাবলিগের দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা যে কোনো সময় সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিল্লির নিজামুদ্দিনের তাবলিগি মারকাজের আমির মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে বিশ্ব ইজতেমায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের কওমি আলেম-উলামারা। পাক-ভারত-বাংলাদেশের কওমি শীর্ষ আলেমদের মতামত ও সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে এবং তার আগমন ঠেকাতে চলা আলেম-উলামা ও তাবলিগপন্থিদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ ফাঁকি দিয়ে গতকাল বুধবার বিকালে পুলিশ প্রহরায় বিমান বন্দর থেকে কাকরাইলের মারকাজে পৌঁছান সা’দ কান্ধলভী ও তার সঙ্গীরা। দেওবন্দী অনুসারী আলেমদের মতামত তোয়াক্কা না করে সা’দকে বাংলাদেশে আনার ঘটনায় এখন মারমুখী অবস্থায় রয়েছেন তাবলিগের শূরা সদস্য প্রকৌশলী ওয়াসিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণাধীন কাকরাইল মসজিদ গ্রুপ ও তাবলিগ জামাতের আমির হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমাদের নেতৃত্বাধীন দেওবন্দপন্থিরা। সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে তাবলিগ জামাতের হাজার হাজার অনুসারী হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ঘিরে অবরোধ রচনা করে গতকাল দিনভর বিক্ষোভের কারণে যানজটে অচল হয়ে পড়ে ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। চরম দুর্ভোগে পতিত হয় উত্তরা, গাজীপুর, সাভার এলাকায় চলাচলরত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। বিমান বন্দর মোড়ের দুই দিকেই যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে নিরুপায় লোকজনকে। কেবল ঢাকা নয়, সারাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে। অনেক মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে সাদ ইজতেমায় গেলে তারা বয়কট করবেন।

 

সর্বশেষ সাদ কান্ধলভীর আগমন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর কাকরাইল মসজিদ ঘেরাও ও সড়কে পাহারা বসানোর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তাবলিগের একাংশ। তারা বিমান বন্দর সড়ক ছেড়ে দিয়ে একদল টঙ্গীর দিকে আরেক দল কাকরাইল মসজিদ অভিমুখে রওনা হন।

 

মাগরিবের নামাজের পর কয়েকটি ট্রাকে করে তাবলিগের লোকজন এসে কাকরাইল মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকে। আগে থেকেই মসজিদের চারদিক ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে তাবলিগের লোকজনের আগমন বাড়তে থাকলে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। তাবলিগ-জামাতের একটি অংশ মসজিদটিতে প্রবেশ করতে চায়। যদিও পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাকরাইল মসজিদ চত্বর ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।  

 

জানা গেছে, মাওলানা সাদ কান্ধলভী বছর খানেক আগে থেকেই ইসলাম ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে তাকে বারবার সতর্ক করার পর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ তার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়। ওই ফতোয়ায় মুসলমানদের সতর্ক  করে বলা হয় মাওলানা সাদ তার বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সরে না আসেন তা হলে তার সঙ্গে কাজ করা ঠিক হবে না। কিন্তু তার ভুল তিনি শোধরাননি। এ কারণেই বাংলাদেশে তার আগমন নিয়ে কওমি আলেমরা বিক্ষোভ প্রতিবাদ করে আসছেন।

 

বাংলাদেশে তাবলিগ পরিচালনাকারী ১১ সদস্যের সুরা কমিটির ৭ জন হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদের পক্ষে। ৩ জন ওয়াসিফুলের পক্ষে। একজন মৌন। সা’দ কান্ধলভীকে আনার প্রসঙ্গ নিয়ে বিতণ্ডায় গত ১৫ নভেম্বর মাওলানা জোবায়ের আহমাদ ও ওয়াসিফুল ইসলামের গ্রুপের মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষে কাকরাইল মসজিদ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সা’দ ভক্ত ওয়াসিফ ও তার অনুসারীদের রুম ভাঙচুর করে দখলে নেয় জোবায়ের গ্রুপ। ওয়াসিফের রুমের দরজা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫ জন আহত হন। পরে ওয়াসিফুল তার লোকজন নিয়ে আবারো কাকরাইল মসজিদে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছে।

 

তাবলিগের কয়েকজন মুরুব্বীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, ইজতেমায় সা’দকে আনা না আনা নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাক্রমে তাবলিগ জামাতের মুরুব্বী ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি সাদের ঢাকা সফরের প্রতি নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেন।

 

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়িতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উলামায়ে কেরাম, কাকরাইলের শুরার উপদেষ্টা, কাকরাইলের শুরা ও ভারতে সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য উপস্থিতি ছিলেন। ওই বৈঠকে ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্ধলভীর না আসার পক্ষে মত দেন। এরা হলেন- বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মাদ যোবায়ের, মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন ও মাওলানা ফারুক, বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা আনাস মাদানী, তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা উমর ফারুক ও মাওলানা রবীউল হক, শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা মিযানুর রহমান সাঈদ, হাটহাজারীর মুফতি কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা মুফতি মোহাম্মাদ আলী (মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদের প্রতিনিধি), ভারত সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক। একই সঙ্গে এই ১৩ জন সদস্য দিল্লির নেজামুদ্দীন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সাদ ও মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ এবং নেজামুদ্দীনের বাইরের মাওলানা ইবরাহীম দেওলা ও মাওলানা আহমাদ লাটকে না এসে ইজতেমায় তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর সুপারিশ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকৌশলী ওয়াসিফুল ইসলামের সুপারিশে মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসার জন্য বিশেষ ভিসা দেয়া হয়। এর পরেই সাদকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন কওমি আলেমরা।

 

জানা যায়, গত বছরও বিশ্ব ইজতেমায় সাদকে না আসার অনুরোধ জানান বাংলাদেশের কওমি আলেমরা। তিনি কেবল মাত্র বয়ান শুনবেন কিন্তু বয়ান করবেন না এই মুচলেকা দিয়ে আসেন। এসে গত ইজতেমায় চার বার বয়ান করেন সাদ। 

 

সাদ কান্ধলভীর যে সব বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক:

 

সাদ কান্ধলভীর ২৬টি বক্তব্য নিয়ে চরম বিতর্ক চলছে যা প্রত্যাহারের জন্য দেওবন্দ মাদ্রাসা ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি সম্মত হননি। বিভিন্ন সময় দেয়া সাদ এর বিতর্কিত বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে:ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল রাখা হারাম। কারো পকেটে ক্যামেরা বিশিষ্ট মোবাইল রেখে নামাজ পড়লে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না।

 

যে উলামায়ে কেরাম ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল রাখেন, তাঁরা উলামায়ে ছূ। বারবার কসম করে বলেন, তাঁরা হলেন উলামায়ে ছূ। এমন আলেমরা হল গাধা।

 

কুরআন শরিফ শিখিয়ে যাঁরা বেতন গ্রহণ করেন, তাঁদের বেতন বেশ্যার উপার্জনের চেয়ে খারাপ। যেই ইমাম এবং শিক্ষকরা বেতন গ্রহণ করেন, তাদের আগে বেশ্যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। মাদরাসাগুলোতে যাকাত না দেয়া হোক। মাদরাসায় যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। রাসূল (স.) এর পর কেবল তিনজনের বাই’আত পূর্ণতা পেয়েছেন, বাকি সকলের বাই’আত অপূর্ণ। তিনজন হলেন; শাহ ইসমাঈল শহীদ (রাহ.), মাওলানা ইলিয়াছ (রাহ.) ও মাওলানা ইউসূফ (রাহ.)। দাওয়াতের পথ নবীর পথ, তাছাউফের পথ নবীর পথ নয়। রাসূল (সা.) দাওয়াত ইলাল্লাহ’র কারণে ইশার নামাজ দেরিতে পড়েছেন। অর্থাত্ নামাজের চেয়ে দাওয়াতের গুরুত্ব বেশি।

 

হযরত মুসা (আ.) দাওয়াত ছেড়ে দিয়ে কিতাব আনতে চলে যাওয়ার কারণে পাঁচলক্ষ সত্তর হাজার লোক মুরতাদ হয়ে গেল। হযরত মূসা (আ.) কর্তৃক হারুন আ. কে নিজের স্থলাভিষিক্ত বানানো উচিত হয়নি। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা বান্দাকে জিজ্ঞাস করবেন, তা’লীমে বসেছিলে কি না, গাশত করেছিলে কি না? প্রত্যেক সাহাবী অপর সাহাবীর বিরুদ্ধাচরণ করছেন। প্রভৃতি।

 

দলে দলে বিমান বন্দরে

 

মাওলানা সাদ টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হবেন এমন খবরে মুসল্লিরা সকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে থাকে। তবলিগ জামাতের অনুসারীরা বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এই খবর টঙ্গী ইজতেমা মদানে পৌঁছালে ময়দান থেকে সাদের অনুসারীরা ও দলে দলে বিমানবন্দর আসে। এ নিয়ে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।  তাবলিগ জামাতের অনুসারীদের বিক্ষোভের কারণে বিকাল পর্যন্ত যানজটে অচল হয়ে পড়ে উত্তরা, গাজীপুর, সাভার এলাকায় চলাচলরত কয়েক হাজার যানবাহন। বিমানবন্দর মোড়ের দুই দিকেই যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে পরিবহন যাত্রীদের। গাজীপুর থেকে ঢাকামুখী যানবাহন যেমন আসতে পারছে না, তেমনি বনানী থেকে উত্তরার দিকেও যেতে পারছে না কোনো পরিবহন। এতে দুই দিকের সড়কেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে লাখো মানুষ।

 

বিমানবন্দর মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেয়ায় ঢাকামুখী গাড়ির সারি বিমানবন্দর মোড় থকে টঙ্গী পেরিয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অনেক দূর ছড়িয়ে যায়। যারা জরুরি কাজে ঢাকায় আসছেন, তারা গাড়ি থেকে নেমে ভেতরের সড়ক ধরে আগানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মূল সড়কে গাড়ি বন্ধ থাকায় ভেতরের সড়কে ঢুকে পড়া গাড়িগুলো ওই সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে যানজটের লাইন প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে অলি-গলিতে পৌঁছে যায়। পরে মহাসড়কের উপর বিক্ষোভকারী মুসল্লিরা আসরের নামাজ আদায় করে মোনাযাতের পর তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সমাপ্তির আগে মাওলানা শরী মোহাম্মদ বলেন, ইজতেমা চলাকালীন সময়ে মহাখালীর উত্তরের মাদ্রাসা তৌহিদী জনতারা ইজতেমার ১নং গেটে অবস্থান নিবে। আর মহাখালীর দক্ষিণের মাদ্রাসার তৌহিদী জনতারা কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নিবে।  এদিকে  মাওলানা সাদকে খুঁজতে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি চালায় বিক্ষোভকারীরা। সড়কে অবস্থান নেয়া বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিচ্ছে।

 

কাকরাইলে সারারাত পুলিশি নিরাপত্তা

 

মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অবস্থান করা নিয়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাবলিগ-জামাতের একটি অংশ মসজিদটিতে প্রবেশ করছে চাইছেন। যদিও পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ বলছে, গতকাল বুধবার সারারাত কাকরাইল মসজিদ এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাবিদ কামাল শৌবাল বলেন, নামাজের জন্য আসা মুসল্লিদের আমরা আশপাশের অন্য মসজিদের নামাজ পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। নিরাপত্তার স্বার্থেই এমনটি করা হচ্ছে।

 

সাদকে হেলিকপ্টারে টঙ্গী ময়দানে নেয়ার চিন্তা

 

গতকাল রাতে কাকরাইল মসজিদের খাদেম কাওসার আহম্মেদ জানান, মাওলানা সাদের সঙ্গে এই মুহূর্তে সাতজন মসজিদে অবস্থান করছেন। তিনি আমাদের অতিথি খানায় নিরাপত্তায় রয়েছেন। আমরা চাই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশে ইজতেমা হোক। আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং দেওবন্দের মতামতকে গুরুত্ব দেয়াসহ একাধিক বিষয়ে সেখানে আলোচনা করা হবে। ইজতেমার মাঠে তিনি বয়ান করবেন কিনা সে ব্যাপারেও সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। কাকরাইলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রে জানা গেছে, সাদ কান্ধলভীকে প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে হলেও টঙ্গী ময়দানে নিতে চান তার অনুসারীবৃন্দ।

 

বিতর্কের অবসান কামনা

 

এদিকে বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সা’দের যোগদান ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের দ্রুত অবসান চেয়েছেন তাবলিগ জামাতের আরেক অংশের নেতারা। গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, মাওলানা সা’দ না আসলে এটা বিশ্ব ইজতেমা থাকবে না। এটা হবে স্থানীয় ইজতেমা। কারণ, মাওলানা সা’দ না আসলে অনেক বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

 

শাহজালালে সিডিউল

বিপর্যয় চরমে

বিমানবন্দরের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে দিনভর বিক্ষোভের কারণে বিমানের সিডিউল বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ৮টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় বাংলাদেশ বিমানের ৬টি ও অন্যান্য ১২টি এয়ারলাইন্সের অনেক ফ্লাইট যাত্রীর অভাবে অনটাইম উড্ডয়ন করতে পারেনি। অল্প কয়েকটি ফ্লাইট নামমাত্র সংখ্যক যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করেছে। এতে শাহজালাল বিমানবন্দরের আসা সব এয়ারলাইন্স কমবেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন, রাস্তাজুড়ে তীব্র যানজটের কারণে বিমানের সবকটি ফ্লাইটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সময়মতো বিমানবন্দরে আসতে পারেননি অনেক যাত্রী। যে কারণে বেশিরভাগ ফ্লাইট ১ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরি করে উড্ডয়ন করেছে।

কে এই মাওলানা সাদ?

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের বর্তমান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী। ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেওয়ায় পর সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে পড়েন তিনি।

প্রায় ১০০ বছর আগে ইসলামের দাওয়াতি কাজকে ত্বরান্বিত করতে মাওলানা ইলিয়াছ শাহ (রহ.) দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেন। মাওলানা ইলিয়াছের (রহ.) ছেলে মাওলানা হারুন (রহ.)। তারই ছেলে হলেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী। মাওলানা সাদ ১৯৬৭ সালের ভারতের দিল্লির নিকটবর্তী এলাকা মেওয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে তাবলিগ জামায়াতের আমির মাওলানা জোবায়েরুল হাসান মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তাবলিগ জামাতের বিশ্ব মারকাজ দিল্লির নিজামুদ্দিনে মুরব্বি হিসেবে পালন করছেন।

শেয়ার করুন
  • 19
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here