image_88579গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে সৃষ্ট সহিংসতা ও ১৮ দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধে সারা দেশে চারজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও বরিশালে এই চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সারা দেশে পুলিশ-পিকেটার সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে অবরোধ চলছে।

ঢাকা : গতকাল রাত আটটার দিকে মধ্যবাড্ডার প্রগতি সরণিতে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে যানবাহনসহ সবাই দ্রুত ঐ এলাকা ছাড়তে থাকে। এ সময় ঢাকা সিএনজি নামের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি বাস পেছন থেকে একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই রিকশা চালকের মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা : গতকাল রাতে কুমিল্লা নগরীতে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ১৮ দলের কর্মীরা মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিতে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিতে আরো অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সার। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে ১৮ দলের অবরোধের প্রথম দিন পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে সাকমান আলী (৪০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহরের জগাই মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে বাইসাইকেল দিয়ে যাওয়ার সময় সাকমান আলী টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যান। অজ্ঞান অবস্থায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

বরিশাল : বরিশালের গৌরনদীতে পিকেটারদের হামলায় রফিকুল ইসলাম (২৬) নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি পিকআপে করে বরিশাল নগরীতে আসার সময় পিকেটারদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন। তাকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নিহতের বাড়ি মেহেরপুর জেলায়।

এদিকে অবরোধের কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজকের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ (গাজীপুর):বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে পিকেটারদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বিক্ষুব্ধ পিকেটাররা দুইটি লেগুনা, দুইটি বাস ও পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ চার পিকেটারকে গ্রেফতার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে কালীগঞ্জ বাজারে আসলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এ সময় দুইটি লেগুনা, দুইটি বাস ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের মাঝে সহিংস রূপ দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পিকেটাররা এ সময় কালীগঞ্জ বাজার, বাতার্দি ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৬/৭ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

কালীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি শাহরিয়ার আল মামুন জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরদিকে সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি মিছিল মহানগরীর রাজবাড়ী এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিল থেকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগে. (অব.) আ. স. ম. হান্নান শাহের মুক্তি দাবি করা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সকালে বরুদাডালে অবরোধকারীরা কয়েকটি লেগুনা ও সিএনজি ভাঙচুর করেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া নগরীরর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ): গতকাল সোমবার তফসিল ঘোষণার পর পরই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এর পক্ষে-বিপক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিছিল বের করে। মিছিল দু’টি ধানমহলে মুখোমুখী হলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিএনপির মিছিলটি মধ্যবাজারে গেলে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর হামিদুল ইসলাম (৫৫), সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নুরুল ইসলাম (৫০), কন্সটেবল জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), আ. রহমান (৩৭) ও বিএনপির এএফএম নজমূল হুদা গ্রুপের আরো ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক রাউন্ড ও মধ্যবাজারে দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়। আহত ও.সি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. হামিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি করেছে। পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে রাত নয়টার দিকে বিএনপি ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল গ্রুপ ও এর অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল থেকে একটি পিকাপ ও একটি ঔষধ কোম্পানির গাড়ি ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

কুমিল্লাঃ গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা নগরসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে বিএনপি-ছাত্রদল এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। নগরীর মনোহরপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দক্ষিণ চর্থা এলাকার দেলোয়ার নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয় এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে আরো কমপক্ষে ২০/২৫ জন। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম, সদর, সদর দক্ষিণ, পুদয়ার বাজার, ঝাগুরঝুলি, বুড়িচং, সৈয়দপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আগুন দেয়া হয় ৩/৪টি সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় ও একটি বিআরটিসি গাড়িতে। সোমবার রাত হতে আজ মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ১৮ দলের ৪ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পটুয়াখালী: আজ মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের তেলিখালী ব্রিজ এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১০ অবরোধকারী ও মির্জাগঞ্জে বিএনপির এক নেতা আহত হয়েছেন। এর আগে ঢাকা-কুয়াকাটাগামী একটি নাইটকোচে ভাংচুর করে অবরোধকারীরা। হেতালিয়া বাঁধঘাট ও মির্জাগঞ্জের কাঠালতলীতে একটি বাস ও একটি টেম্পুতে অগ্নিসংযোগ এবং পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। পটুয়াখালী-বরিশাল ও কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here