Marchবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দিনভর গুলশানে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যায় নির্বিঘ্নে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে বড় দিনের এক সমাবেশে সরকারকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ২৯ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বাধা দিবেন না। যদি আমাদের এই কর্মসূচি পালন করতে না দেয়া হয় তাহলে পরিণতি হবে ভয়াবহ, কঠিন। আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবো। তিনি বলেন, যত চেষ্টাই করেন ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে পারবেন না, থাকতে দেয়া হবে না। দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, কেউ দয়া করে ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। তারা ১৫৪টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়েছে। ৩০০টি সিট জিতে নিক তাতে কিছু হবে না। বড় দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের সদস্যরা এই বড় দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেগম খালেদা জিয়া তাদের নিয়ে বড় দিনের কেক কাটেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এদিকে মঙ্গলবার রাত দুইটা থেকে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ফিরোজা অবরুদ্ধ করে রাখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়নি, বের হতেও দেয়া হয়নি। দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক বেগম জিয়ার বাসায় ঢুকতে চাইলে পুলিশের বাধায় ফিরে যান। সন্ধ্যায় সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হোসেন বকুল বেগম জিয়ার বাসায় যেতে চাইলে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এমনকি সাংবাদিকদেরও ওই বাড়ির ত্রি-সীমানায় ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। অপরদিকে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ও অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। সেখানে কাউকে প্রবেশ ও বের হতে দেয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। সেখানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পূর্ব নির্ধারিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

খালেদা জিয়া তার বাসা ও অফিস পুলিশ ঘিরে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর নাম কি গণতন্ত্র? আমার বাড়ি-অফিস ঘিরে রাখার মানে কী? আমরা কথা বলতে পারবো না, সমাবেশ করতে পারবো না- এটা হতে পারে না। এই সরকার চরম স্বৈরাচার। দেশের মানুষ আজ আতঙ্ক-ভীত সন্ত্রস্ত। কেউ নিরাপদ নয়। আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছি; কিন্তু তারা চান কোন দল যেন নির্বাচনে অংশ না নেয়। তারা আসন ভাগাভাগি করেছে। এ দেশ যেন জনগণের দেশ নয়। আওয়ামী লীগের পৈত্রিক সম্পত্তি হয়ে গেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, ২৯ ডিসেম্বর আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আহ্বানের পর থেকে সরকারের হুমকি-ধামকি শুরু হয়েছে। তারা জনগণের দল নয়, জনগণের সাথে সম্পর্ক নেই। তাদের মন্ত্রী-এমপিরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তারা নিজেরা এ হিসাব দিয়েছে। যদিও এ হিসাব সঠিক নয়। সম্পদের লোভে তারা ক্ষমতা থেকে সরতে চায় না। নিরাপেক্ষ নির্বাচন করতে তারা ভয় পায়। একটা প্রহসন হয়ে গেছে এ নির্বাচন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ, মেরুদণ্ডহীন, অপদার্থ। তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণ চাইলে জেদ ও প্রতারণা ছেড়ে নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে আলোচনায় আসুন। এখনো সংবিধান সংশোধনের সুযোগ আছে। আমরা ফর্মুলা দিয়েছি। আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করুন। খালেদা জিয়া বলেন, ২৯ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হবে। সর্বস্তরের মানুষ আসবে। উত্সবমুখর পরিবেশে হবে। এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কেন বাধা দিবেন। আপনারা আপনাদের অফিসের সামনে সমাবেশ করতে পারলে আমরা কেন পারবো না। তিনি বলেন, সরকার নিজেদের লোক দিয়ে বাস পোড়াচ্ছে, আগুন দিচ্ছে, মানুষ মারছে। এটা নতুন নয়, ১৯৯৬ সালেও তারা এটা করেছে। তাদের হাতে শুধু রক্ত। এই সরকারের অধীনে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়। এ সময় তিনি সাতক্ষীরায় বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ খ্রীস্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি এলবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ডেবেট রোজারিও, মার্সেল এল চিলং, মিস শুভ্র, ফাদার আলবার্ট রোজারিও প্রমুখ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here