Thakurgaonগত রবিবার ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার বাসুদেবপুর ও গড়েয়া গোপালপুর ইউনিয়নে হিন্দুপাড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার পর গত সোমবার রাতে আবার দু’দফা হামলা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা শতাধিক হিন্দু ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। ১০/১২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করা হয়। তাছাড়া দেউনিয়া ও আকচা বাজারে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ১০/১৫টি হিন্দু দোকান ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। প্রাণ বাঁচাতে পাশের ইসকন মন্দিরে আশ্রয় নেন অসহায় বাসিন্দারা। এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়ায়ও সংখ্যালংঘুর বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।

ঠাকুরগাঁও:এলাকাবাসী জানায়, গত রবিবার হামলার পর গত সোমবার রাতে ফের দুর্বৃত্তরা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসুদেবপুর ও গড়েয়া গোপালপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়ায় দু’দফা হামলা চালিয়েছে। প্রথম দফায় সোমবার রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় গড়েয়া গোপালপুর হিন্দুপাড়ায়। এ সময় তারা গোপালপুর এলাকায় শতাধিক হিন্দু ঘর-বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তারা ১০/১২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করে। প্রাণ বাঁঁচাতে পাশের ইসকন মন্দিরে আশ্রয় নেন ঐ পাড়ার অসহায় বাসিন্দারা। পরে রাত ১০টার দিকে বাসুদেবপুর হিন্দুপাড়া এবং দেউনিয়া ও আকচা বাজারে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা । এ সময় তারা ১০/১২টি হিন্দু দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার অস্থায়ী সেনাবাহিনী ও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইসকন মন্দিরে আশ্রয় নেয়া দুলাল সরকার মঙ্গলবার বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে গন্ডগোলডা লাগল, আর এতেই আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেল।’ পালিয়ে কোনোমতে প্রাণ বেঁচে যাওয়া ৫২ বছর বয়সী এ মানুষটি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘দ্যাশ স্বাধীনের পর আমার জীবনে এরম তাণ্ডব দেখিনি।’

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে গোপালপুর, বাসুদেবপুর ও আকচা ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা বোমাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টি করে সংখ্যালঘু লোকদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করে। গড়েয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়েয়া ফাজিল মাদরাসাসহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর রাত ৮টার দিকে দেড় শতাধিক সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায় গোপালপুর হিন্দুপাড়ায়। এসময় তারা ৮/১০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আতঙ্কিতরা বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে থাকে। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা শতাধিক বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে এবং ১০/১২টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। আতঙ্কিতরা গোপালপুর ইসকন মন্দিরে প্রাণের ভয়ে আশ্রয় নেয়।

জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৩২ রেজিমেন্টের কমান্ডার লে. কর্নেল সামসুল আরেফিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অস্থায়ী সেনাবাহিনী ও পুলিশ ক্যাম্প করার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাতিয়া (নোয়াখালী): নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েকটি সংখ্যালঘু বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ বেজুগালিয়া গ্রাম ও চরকিং ইউনিয়নের কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও ধানের পাড়ায় অগ্নিসংযোগ করেছে। এসময় দুর্বৃত্তরা উত্তমদাস, সুরন্দ্রনাথ, বিধান, হরেন্দ্র ও জগদীসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো: মইন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি মো: মামুন ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মো: ফজলে রাব্বি মঙ্গলবার দুপুরে এ সকল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংখ্যালঘুদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা এসকল নাশকতা ঘটিয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন স্থানীয় সংখ্যালঘুরা।

এদিকে হাতিয়ার চরকিং ভৈরববাজার ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজারে নির্বাচনী সহিংসতায় ১০ জন আহত হয়। এর মধ্যে আহত কয়েকজনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে গোলযোগের আশংকায় মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

গাইবান্ধায় সংঘর্ষে

আহত ৭

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার কুপতলা ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা কামারের টারী গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট এবং আগুন দেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার বিএনপি-জামায়াতের সাথে যুবলীগের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এদিকে সোমবার রাতে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের তাণ্ডবে ২টি বাড়ি এবং ৩টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত হয় ২ জন।

আহতদের মধ্যে কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সরকার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বিএনপি কর্মী গাটু শেখ, সংখ্যালঘু ননী গোপাল কর্মকার, নরেশ চন্দ্র কর্মকার, যুবলীগকর্মী খালেক মিয়া, মাসুদ মিয়া ও মিঠু মিয়াকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি গোপাল চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং প্রচুর সংখ্যক র্যাব বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মহাদেবপুরে বাড়িতে

হামলা ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, দিনাজপুরের সদর উপজেলার কর্ণাই গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংতার পর গত সোমবার রাতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম মহাদেবপুরে শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।

নির্বাচনের পর গত রবিবার রাতে দিনাজপুরের সদর উপজেলার কর্ণাই গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারসহ নির্বাচনের পক্ষের বিভিন্ন পরিবারের বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ চালায় দুষ্কৃতকারীরা। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয় পার্শ্ববর্তী গ্রাম মহাদেবপুরের চিহ্নিত লোকজনের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাতে একদল দৃষ্কৃতকারী হামলা চালায় মহাদেবপুর গ্রামে। গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, দুষ্কৃতকারীরা ১০০ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, ও লুটপাট করে।

তবে গ্রামবাসীর এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ জানায়, কর্ণাই গ্রামে হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য যৌথ বাহিনী অভিযান চালায় ঐ গ্রামে। গ্রেফতার আতঙ্কে পালানোর সময় এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান পুলিশের এই কমকর্তা।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here