ট্রেনের অগ্রিম টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন বেশিরভাগ মানুষ। তেমনি টিকেট নিয়ে অভিযোগেরও শেষ নেই। যাত্রীরা বলছেন, স্বজনপ্রীতির কারণে সাধারণ মানুষ টিকেট পাচ্ছেন না। বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে কাউন্টার থেকে টিকেট না থাকার কথা জানানো হচ্ছে। তাই টিকেট কালোবাজারির অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। শুক্রবার টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিনে কমলাপুর রেল স্টেশনে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশন ম্যানেজারকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন। স্টেশন ম্যানেজার আসন না থাকায় দাঁড়িয়ে যাবার টিকেট দেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আসন্ন ঈদুল আযহায় ঢাকা থেকে ঘরে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার শেষ নেই সাধারণ মানুষের। টিকেটের জন্য দুশ্চিন্তা কাটছে না। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট নিতে অনেকে ভিড় জমান কমলাপুর রেল-স্টেশনে। রাতভর টিকেটের অপেক্ষা। টিকেট হাতে পেলেও নিশ্চিত হয় প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন। সকাল ৯টা থেকে অগ্রিম টিকেট দেয়া শুরু হয়। শুক্রবার দেয়া হয় ১৩ অক্টোবরের টিকেট । আজ দেয়া হবে ১৪ অক্টোবরের টিকেট।
রাতভর অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে নয়টায় টিকেট হাতে পেয়েছেন চট্টগ্রামের যাত্রী নিলয়। তিনি জানান, তিনটি টিকেট কিনেছে। কষ্ট সার্থক হয়েছে। টিকেট হাতে পেয়ে তার মধ্যে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। যেন অনেক কিছুই হাতে পেয়েছেন তিনি। কিন্তু রাগ-কষ্ট আর ক্ষোভের শেষ ছিল না বালুল মিয়ার। তিনি জানান, খুলনার টিকেট কাটতে এসেছিলেন তিনি। এক ঘন্টা টিকেট বিক্রির পর কাউন্টার থেকে জানানো হয় টিকেট না থাকার কথা। কেবিন তো দূরের কথা, সাধারণ টিকেট ও পাননি তিনি।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকেট না পাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাড়ে ক্ষোভ। সবাই এক হয়ে স্টেশন ম্যানেজারের রুমের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ম্যানেজার বলেন, টিকেট নেই তাই বিক্রির সুযোগ নেই। আপনারা বাড়ি ফিরে যান। একথা বলার পর আরও বিক্ষুব্ধ হয় টিকেট নিতে আসা লোকজন। একপর্যায়ে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, আপনারা শান্ত হোন। আপনাদের দাঁড়িয়ে যাবার টিকেট হলেও দেয়া হবে। একথা বলার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
নেত্রকোনার যাত্রী আবদুল কাদের জানান, ভোররাত থেকে অপেক্ষা করে দু’জনের পরে দাঁড়িয়েছি। হাওর এক্সপ্রেসের টিকেট নিতে। কিন্তু ৫০টি প্রথম শ্রেণীর চেয়ারের মধ্যে দুইজনের কাছে আটটি টিকেট বিক্রি করার পরেই কাউন্টার থেকে বলছে আর টিকেট নেই। এ কারণে তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. খায়রুল বশীর বলেন, কাউন্টারে নির্ধারিত টিকেট পেতে যাতে কোন ধরনের অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এ ধরনের কোন অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। এদিকে গত দুই দিনে কত টিকেট বিক্রি হয়েছে তা জানাতে পারেনি স্টেশন কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অগ্রিম টিকেট বিক্রির হিসাব কাউন্টারে আছে, এখনও এ হিসাব আমরা হাতে পাইনি। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী কোটার টিকেট দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
বাসের টিকেট সংগ্রহে কাউন্টারে ভিড় বাড়ছে ॥ বাসের টিকেট সংগ্রহে কাউন্টারগুলোতে ভিড় বাড়ছে। শুক্রবার ছুটির দিনে আসাদগেট থেকে গাবতলী পর্যন্ত বেশিরভাগ বাস কাউন্টারে ভিড় লক্ষা করা গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অগ্রিম টিকেট বিক্রি অধিকাংশ কাউন্টারে প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার মাস্টাররা। ভোর থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঘরমুখো মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। বৃষ্টির বিড়ম্বনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি না ছাড়ার অভিযোগ ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের জন্য অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে অগ্রিম টিকেট দেয়া হচ্ছে না। পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ রুটের যাত্রীরা টার্মিনালে এসে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।logo-jn1

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here