taxiপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীতে ট্যাক্সিক্যাবে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ১শ টাকার পরিবর্তে ৮৫ টাকা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে নতুন ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি গলফ ক্লাবে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আওতায় ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস-এর এই ট্যাক্সিক্যাব প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ভাড়া কমানোর কথা শুনলে জনগণ এই ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার শুরু করবে। আর ভাড়া ১০-১৫ টাকা কমানো হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর লোকসান হবে না। প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ৮৫ টাকা নির্ধারণ, সবার জন্য সুবিধাজনক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিতে প্রস্তুত। তিনি আরামদায়ক ও নিরাপদ ট্যাক্সি সার্ভিস চালুর এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সেনাবাহিনী পরিচালিত এই সেবা নগরবাসীরপরিবহন সংকটের অনেকটাই সমাধান দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট দুস্থ সেনাসদস্যদের কর্মসংস্থান ও জনগণের সার্বিক কল্যাণের ব্রত নিয়েই বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো মুনাফা অর্জনই এর মুখ্য উদ্দেশ্য নয়; বরং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কেন্দ্র করেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম ইতিমধ্যেই সবার প্রশংসা অর্জন করেছে।

সেনাবাহিনীর ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস প্রাথমিকভাবে টয়োটা ব্র্যান্ডের জাপানে নির্মিত ১৫০০ সিসির ২৭টি টেক্সিক্যাব পরিচালনা করবে। অপর বেসরকারি সংস্থা টমা গ্রুপ একই ব্র্যান্ডের ১৯টি টেক্সিক্যাব পরিচালনা করবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ৬০০টি গাড়ি পরিচালনা করবে দুই প্রতিষ্ঠান। এই গাড়িগুলোর প্রথম দুই কিলোমিটারের পর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া হবে ৩৪ টাকা এবং প্রতি দুই মিনিটের ওয়েটিং চার্জ হবে ৮ টাকা ৫০ পয়সা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সকল উন্নত দেশে ট্যাক্সি ক্যাব একটি প্রয়োজনীয় সার্ভিস। মহানগরের অভ্যন্তরে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকরা ট্যাক্সি ক্যাবের উপরেই নির্ভর করেন। ঢাকা মহানগরে এই সার্ভিস ছিল অপ্রতুল। এতে একদিকে জনসাধারণ যেমন এই অপরিহার্য সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, অন্যদিকে বাংলাদেশে ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। অকটেন চালিত এ ট্যাক্স্যািব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অকটেন হচ্ছে পেট্রোলের উপজাত দ্রব্য। আমরা প্রতিবছর অতিরিক্ত অকটেন উত্পাদন করি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করি। তিনি বলেন, অকটেন ব্যবহারের ফলে গাড়ি ভালো থাকে। অকটেনচালিত গাড়ি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। উঁচুমানের শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক দক্ষতা, একাগ্রতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ট্যাক্সি ক্যাব সার্ভিস পরিচালনায় আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের এই প্রকল্পটিও সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বর্তমান এসটিডির আওতায় ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কম্যুটার রেলওয়ে, ভূ-গর্ভস্থ টানেল, ঢাকা শহরের চারিদিকে রিং রোড ও ওয়াটারওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কুড়িল ফ্লাইওভার, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার, মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময় শেষে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকাকে যানজটমুক্ত ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের অন্যান্য কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল পরিকল্পনা অনুমোদন ও মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে রাজধানীতে যাতায়াতের সময়ও কমে আসছে। এছাড়া বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প ও ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন রাস্তা-ঘাট উন্নয়নসহ সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ঢাকা শহরের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীতে আর্টিকুলেটেড বাস সার্ভিস, বিআরটিসির নূতন রুট, স্কুল সার্ভিস, মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধীদের আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে এবং রূপকল্প ২০২১-এর আওতাধীন কয়েকটি প্রকল্প ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রদান করা হয়। তিনি তাদের প্রশংসা করে বলেন, ঢাকা মহানগরীতে নাগরিক সুবিধা ও দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যবর্ধন এবং আরো বসবাস উপযোগী করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রকল্প সফল বাস্তবায়ন করেছে। দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিক্ষার হার ও মান বেড়েছে। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যুগোপযোগী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন এবং সুলভ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ সর্বব্যাপী করা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে থেকেও সমান নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনীর প্রধান ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তিনজন নির্বাচিত চালকের কাছে তিনটি প্রতীকী চাবি হস্তান্তর করেন।

যোগাযোগমন্ত্রী জানান, এই ট্যাক্সিক্যাবগুলো জাপানের টয়োটা থেকে আনা। এই এক্সিও ও প্রোবক্স গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ১৫০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং অকটেনে চালিত। প্রতিটি গাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। গাড়িতে সিকিউরিটি ট্রাকিং, মনিটরিং এবং মিটারের ব্যবস্থা থাকবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here