Report

টানা তিনদিনের বাস ধর্মঘটে দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ভোগ চরমে

ফরিদপুরের মধুখালীতে বাস ডাকাতির ঘটনায় একটি বাসের চালক ও হেলপারসহ তিনজনকে আটকের প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবিতে গত তিনদিন ধরে যশোর, খুলনা, বেনাপোল, সাতক্ষীরাসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঐ বিশাল এলাকার যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবারের মধ্যে শ্রমিকদের মুক্তিসহ তিন দফা দাবি মানা না হলে শুক্রবার থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সব রুট অচল করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

তিন দফার মধ্যে রয়েছে, আটক শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তি, ভিডিও ফুটেজ দেখে যাত্রীবেশী ডাকাতদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা। এছাড়া শ্রমিকদের হয়রানি করার জন্য মধুখালী থানার ওসি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা।

বাস ডাকাতির ঘটনায় সোহাগ পরিবহনের বাসযাত্রী গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো সাত ব্যক্তিকে আসামি করে মধুখালী থানায় মামলা করেছেন।

গত বুধবার দুপুর ১২টায় যশোর মালিক সমিতি কার্যালয়ে মালিক-শ্রমিকদের এক জরুরি সভায় এই দাবি জানানো হয়।

খুলনা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা জানান, ধর্মঘটের কারণে খুলনা থেকে ঢাকাগামী কোনো পরিবহন ছেড়ে যাচ্ছে না। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন রুট থেকে আসা আরিচা হয়ে ঢাকায় পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেনে ঐসব অঞ্চলের যাত্রীরা। ঐসব অঞ্চলের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী ঢাকায় আসা বাসগুলো না ছাড়ায় অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফেরত যাচ্ছে।

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, ভারত ফেরত কয়েকশ যাত্রী বেনাপোলে আটকা পড়েছেন। দূরপাল্লার বাস না ছাড়ায় তারা বিভিন্ন বাসের কাউন্টার ও আবাসিক হোটেলে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাসে করে যাত্রীদের ঢাকা পাঠানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা আমাদের কাছে যাত্রী প্রতি দুই হাজার টাকা দাবি করছেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here